সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা: ৩ গ্রেপ্তার, ২২৯ আসামি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র‍্যাবের অভিযান চলাকালীন দুর্বৃত্তদের হামলায় উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২৯ জনকে সরাসরি এবং আরও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলা দায়ের করেছেন র‍্যাবের উক্ত উপসহকারী পরিচালক। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জঙ্গল সলিমপুর আলিনগরের ইয়াসিন বাহিনীর নেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন ও তাঁর সহযোগী নুরুল হক ভান্ডারীকে। মামলার এজাহারে মোট আসামির সংখ্যা ২২৯। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে তিনজনকে, যাদের মধ্যে দু’জন এজাহারনামীয় এবং একজন অন্য আসামি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

নামগ্রেপ্তারকৃত স্থিতিমন্তব্য
মোহাম্মদ ইউনুসএজাহারনামীয় আসামিআদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ
জাহিদ হাসানএজাহারনামীয় আসামিআদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ
আরিফ হোসেনঅন্যান্য আসামিআদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বুধবার রাতে মামলার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার মূল আসামি ইয়াসিনের বিরুদ্ধে পূর্বে চারটি মামলা এবং নুরুল হক ভান্ডারীর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে, যখন র‍্যাব জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাচ্ছিল। হামলাকারীরা তিন র‍্যাব সদস্য এবং একজন স্থানীয় ব্যক্তিকে জিম্মি করে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে আলীনগরের একটি নতুন নির্মিত দোকানে নিয়ে যায় এবং সেখানে মারধর শুরু করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা র‍্যাবের চারটি পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। পরে ফৌজদারহাট পুলিশের পরিদর্শক সোহেল রানা নেতৃত্বে একটি দল আহতদের উদ্ধার করে এবং দোকানের পাশ থেকে চারটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল সন্দেহভাজন ইয়াসিনের বিরুদ্ধে অন্যান্য গুরুতর মামলাও আছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দ্রুত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।”

এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং র‍্যাব ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে সন্ত্রাসী দমন অভিযান ত্বরান্বিত করেছে।