সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)–এর এক অতর্কিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন সেনা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় একজন দোভাষী প্রাণ হারান এবং আরও তিনজন মার্কিন সেনা আহত হন। হামলায় জড়িত এক আইএস সদস্যকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার প্রাচীন শহর পালমিরা সংলগ্ন একটি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বর্তমানে এমন একটি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যা সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে আইএস সরাসরি জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যদি আমেরিকানদের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে হামলাকারীদের এটি মনে রাখতে হবে—যুক্তরাষ্ট্র তাদের খুঁজে বের করবে এবং কঠোর জবাব দেবে।” তাঁর এই বক্তব্য ওয়াশিংটনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সেন্টকম জানায়, হামলার সময় মার্কিন সেনারা নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। আইএসের অবশিষ্ট সেলগুলো এখনও সিরিয়ার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে এবং সুযোগ পেলেই তারা বিদেশি সেনা ও স্থানীয় সহযোগীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এই হামলা প্রমাণ করে, সামরিকভাবে পরাজিত হলেও আইএস পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সিরিয়া আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। এই জোটের উদ্দেশ্য হলো—আইএসের অবশিষ্ট ঘাঁটি ধ্বংস করা, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান ঠেকানো এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা। যুক্তরাষ্ট্র এই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং সিরিয়ায় সীমিত সংখ্যক সেনা মোতায়েন রেখেছে।
এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও এই হামলার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত মাসেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন এবং হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘নতুন যুগে’ প্রবেশের সূচনা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তবে এই হামলা সেই সম্ভাব্য সহযোগিতার পথে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএসের এমন হামলা শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে—যার মাধ্যমে তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায়। ফলে সিরিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা কৌশল আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| নিহত মার্কিন সেনা | ২ জন |
| নিহত দোভাষী | ১ জন |
| আহত মার্কিন সেনা | ৩ জন |
| নিহত আইএস সদস্য | ১ জন |
সব মিলিয়ে, সিরিয়ায় এই হামলা আবারও স্পষ্ট করে দিল—আইএসের হুমকি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, আর এই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সতর্কতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।