সিরাজদিখান বাজারে আগুন, ৮টি দোকান পুড়ে ছাই

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবারাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেলে সিরাজদিখান ও টংগিবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এবং স্থানীয় পুলিশ এবং জনগণ যৌথভাবে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭ থেকে ৮টি দোকান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পুড়ে গেছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয় কামালের মুদি দোকান থেকে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের অন্যান্য দোকানগুলোতে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান এবং তাদের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিম্নরূপ:

দোকানের নামক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ (টাকা)দোকানের প্রকার
শাহাবুদ্দিন হার্ডওয়্যার৪০,০০,০০০হার্ডওয়্যার
দেলোয়ার কাঠের দোকান১৫,০০,০০০কাঠ সামগ্রী
কামালের ডেকোরেটর১৫,০০,০০০ডেকোরেশন সামগ্রী
আবুল কালামের চায়ের দোকান১০,০০০চায়ের সামগ্রী
কামালের মুদি দোকান২০,০০০মুদি সামগ্রী
অন্যান্য দোকানআংশিক ক্ষতিবিভিন্ন সামগ্রী

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, রাত ১২টা ৪২ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে চারটি ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগুনে সাতটি টিনশেড দোকান মূলত টিন, কাঠ, ডেকোরেশন সামগ্রী ও হার্ডওয়্যার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আশপাশের অনেক দোকান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের সঠিক কারণ তদন্ত শেষে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পুলিশের তৎপরতা এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আগুন লাগার ঘটনা রোধে বাজারে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।