সিরাজগঞ্জে ভোটবিরোধে সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৭

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধের জেরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাধাইনগর ইউনিয়নের গুড়মা গ্রামে এক সংঘর্ষে নারীসহ সাতজন আহত হয়েছেন। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পেছনে ভোট প্রক্রিয়ার সময় কিছু পরিবারের সদস্যদের ভোট দিতে কেন্দ্র যাওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধমূলক পরিস্থিতি কাজ করেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিয়াম হোসেন (১৩), সুলতান মাহমুদ (৩২), সবুরা খাতুন (২৬), রহিম হোসেন (৩০), আব্দুল গফুর (৩২), মোছা. মোস্তারিন পারভীন (৩০) এবং রেহেনা খাতুন (২০)। আহতদের প্রথমে তাড়াশ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখনও এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি; অভিযোগ আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা জানান, ভোটের দিন সকালে মাধাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমিন উদ্দিন গ্রামের কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের ভোট দিতে কেন্দ্র যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই পরিবারের সদস্যরা তার কথা না মেনে গ্রামে থাকা আরেক বিএনপি নেতা মো. নাসির উদ্দিনের পরামর্শে ভোট কেন্দ্রে যান। বিষয়টি জানার পর আমিন উদ্দিন এবং তার অনুসারীরা রাগান্বিত হয়ে ওই পরিবারের বাড়িতে গিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে মারপিট শুরু করেন।

এই হামলার ঘটনায় তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স. ম আফসার আলী জানিয়েছেন, “উভয় পক্ষই বিএনপি থেকে। ঘটনা শুনে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। পরে দুপক্ষকে বসিয়ে বিষয়টি সমাধান করব।”

অপরদিকে, মাধাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিন উদ্দিন হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নিচের টেবিলে আহতদের নাম ও বয়সের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:

নামবয়সলিঙ্গচিকিৎসার অবস্থান
সিয়াম হোসেন১৩পুরুষতাড়াশ হাসপাতাল
সুলতান মাহমুদ৩২পুরুষসিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ
সবুরা খাতুন২৬নারীসিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ
রহিম হোসেন৩০পুরুষসিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ
আব্দুল গফুর৩২পুরুষসিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ
মোছা. মোস্তারিন পারভীন৩০নারীতাড়াশ হাসপাতাল
রেহেনা খাতুন২০নারীতাড়াশ হাসপাতাল

স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের দিন ভোটপ্রক্রিয়ার মধ্যে এমন মতবিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ এবং স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সংলাপ ও সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।