সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা এবং ছাত্রী হোস্টেলে বখাটেদের অনুপ্রবেশের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বৃহত্তর নিরাপত্তা দাবিতে রূপ নেয়।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শুধু ইন্টার্ন চিকিৎসকেরাই নন, সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন। কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি তামিম হাবিব বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমিত জনবল এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের মধ্যেও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে, যা চিকিৎসা পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষ করে হাসপাতালের প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণের অভাব থাকায় বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তামিম হাবিব হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক গেটপাস ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচিতে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ বুলবুল আহমেদসহ আরও অনেক ইন্টার্ন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সবাই একযোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল হাসপাতালের শিশু বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজনদের একটি দল হামলা চালায় এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনাই মূলত চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা ঘটায়।
নিচে ঘটনাটির সারসংক্ষেপ একটি টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| ঘটনার তারিখ | ১ এপ্রিল |
| আক্রান্ত ব্যক্তি | ইন্টার্ন চিকিৎসক |
| অভিযোগকারী পক্ষ | রোগীর স্বজন |
| প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু | ৫ এপ্রিল, বেলা সাড়ে ১১টা |
| কর্মসূচির ধরন | কর্মবিরতি ও অবস্থান |
| প্রধান দাবি | নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দোষীদের শাস্তি |
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় চিকিৎসা সেবার মান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
