দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশে পেঁয়াজের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফসলের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে, এবং এখনও পুরোনো ফসলের এক লাখ টনেরও বেশি পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। তবু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচে বাধ্য করা এবং অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন।
গত দুই দিনে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০-৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বাধিক ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা জানান, সিন্ডিকেটকৃত এই ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা তাদের পণ্য যথাযথ দামে বিক্রি করতে পারছেন না। আগের মৌসুমে অনেক কৃষক ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তাদের হাতে এখন পেঁয়াজ নেই, ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মধ্যস্বত্বভোগী ও আড়তদাররা।
বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যের পরিস্থিতি নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বাজারের নাম | দেশি পেঁয়াজের দাম (টাকা/কেজি) | নতুন পেঁয়াজের দাম (টাকা/কেজি) | অক্টোবরের শেষের দাম (টাকা/কেজি) | সেপ্টেম্বরের শেষের দাম (টাকা/কেজি) |
|---|---|---|---|---|
| কাওরান বাজার | ১৫০ | ১৪০ | ৭০ | ৬০–৬৫ |
| নয়াবাজার | ১৪০ | ১৩৫ | ৭০ | ৬০–৬৫ |
| রামপুরা কাঁচাবাজার | ১৬০ | ১৪৫ | ৭০ | ৬০–৬৫ |
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. জামাল উদ্দীন জানান, দেশের বাজারে সরবরাহের ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, “মূল সমস্যা হলো সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি। সরবরাহ যথেষ্ট হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।”
ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইনও একই কথা পুনরায় উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, আড়তদার ও কমিশন এজেন্টরা পেঁয়াজ কিনে মজুত রাখছে, যা বাজারকে অস্থিতিশীল করছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনও এই অস্থিরতার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির সুপারিশ করেছে।
কমিশন জানিয়েছে, খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ৯০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে বর্তমানে এটি ১১৫–১৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের তৎপরতা এবং বাজার মনিটরিং বাড়ানো না হলে এই কৃত্রিম সংকট আরও গভীর হতে পারে।
