নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গভীর রাতে সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় একটি পরিবার বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী হারিয়েছে। ঘটনাটি শুধু ভুক্তভোগী পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার সিমা ডাইং কারখানার পেছনে অবস্থিত একটি আবাসিক বাড়িতে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ৭ থেকে ৮ জনের একটি সুসংগঠিত ডাকাতদল পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়ির পেছনের বারান্দার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রবেশের পর তারা দ্রুত পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ঘরের কর্তা মনজেল মোর্শেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।
পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়, যাতে তারা কোনো ধরনের প্রতিরোধ বা সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে না পারে। ডাকাতরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে জানায় যে তারা ডাকাতি করতে এসেছে এবং সহযোগিতা না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা ঘরের আলমারি ও লকারের চাবি সংগ্রহ করে।
প্রায় ২০ মিনিট ধরে তারা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্য সংগ্রহ করে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মায়েজ ইবনে মোর্শেদ জানান, ডাকাতরা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নগদ, ৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, তিনটি দামি হাতঘড়ি এবং বিভিন্ন মূল্যবান পোশাক নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, লুট হওয়া সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার মধ্যে।
নিচে লুট হওয়া সামগ্রীর একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| লুট হওয়া সামগ্রী | পরিমাণ/বিবরণ | আনুমানিক মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| নগদ অর্থ | প্রায় ২.৫ লাখ টাকা | ২,৫০,০০০ |
| স্বর্ণালঙ্কার | ৩২ ভরি | ৭৫,০০,০০০ |
| হাতঘড়ি | ৩টি | উল্লেখযোগ্য |
| পোশাক ও অন্যান্য দ্রব্য | শাড়ি, জুতা, কাপড় ইত্যাদি | উল্লেখযোগ্য |
| মোট | — | প্রায় ৮০–৯০ লাখ |
ঘটনার পরদিন সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, ডাকাতরা আগে থেকেই বাড়িটির কাঠামো, অবস্থান এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল। বিশেষ করে গ্রিল কেটে প্রবেশ এবং অল্প সময়ের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে লুটপাট সম্পন্ন করা—এসব বিষয় তাদের পেশাদার ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা রাতের বেলায় পুলিশ টহল জোরদার, আবাসিক এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
