সিডনির নিউক্যাসেলে বিশালাকার কাঠের শহীদ মিনারে একুশে পালন

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের শিল্পনগরী নিউক্যাসেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ হাতে নির্মিত ৩.৭ মিটার (প্রায় ১২ ফুট) উচ্চতার একটি বিশালাকার কাঠের শহীদ মিনার। নিউক্যাসেল বাংলাদেশি কমিউনিটি (এনবিসি)-এর উদ্যোগে স্থানীয় স্পিয়ার্স পয়েন্ট পার্কে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রবাসে একুশের চেতনা ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

বিদেশের মাটিতে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মাহাত্ম্য তুলে ধরতে প্রতি বছরই প্রবাসীরা নানা উদ্যোগ নেন। তবে নিউক্যাসেলের এই আয়োজনটি ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। সাধারণত প্রবাসে ছোট আকারের বা অস্থায়ী প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হলেও, এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় এত বড় পরিসরে কাঠের পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রবাসী প্রকৌশলী ও কারিগরদের নিরলস পরিশ্রমে তৈরি এই মিনারটি ছিল শোক ও শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবার অংশ নেয়। ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে লেক ম্যাককুয়ারি সংলগ্ন পার্কটি। ছোট ছোট শিশুরা বর্ণমালা হাতে র‍্যালিতে অংশ নেয়, যা উপস্থিত স্থানীয় অস্ট্রেলিয়ানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আয়োজনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সিটি কাউন্সিল ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রবাসীদের এই সাংস্কৃতিক চেতনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। নিচে আয়োজনের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
আয়োজক সংগঠননিউক্যাসেল বাংলাদেশি কমিউনিটি (এনবিসি)
শহীদ মিনারের উচ্চতা৩.৭ মিটার (অস্থায়ী কাঠের কাঠামো)
স্থানস্পিয়ার্স পয়েন্ট পার্ক, নিউক্যাসেল
উপস্থিতিশতাধিক প্রবাসী পরিবার ও স্থানীয় প্রতিনিধি
প্রধান আকর্ষণশিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও একুশের গান

ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল কাঠামোর শহীদ মিনার নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশের মাটিতে একুশের গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলা। এনবিসি-র নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা চেয়েছি আমাদের সন্তানরা যেন অনুভব করতে পারে তাদের শেকড় কত গভীর। এই ১২ ফুটের শহীদ মিনারটি কেবল কাঠ ও রঙের কাঠামো নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক।”

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর প্রবাসী শিল্পীদের কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বক্তারা অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলা ভাষার অবস্থান সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই সফল আয়োজনের পর নিউক্যাসেল প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন স্বপ্ন দেখছেন সেখানে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের, যাতে প্রতি বছর অত্যন্ত মর্যাদার সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা যায়।