সিটি ব্যাংক তার গ্রাহকদের আন্তর্জাতিক লেনদেনের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে নতুন সুইফট ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকরা রিয়েল-টাইমে ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট ট্র্যাক করতে পারবেন, যা দ্রুত এবং স্বচ্ছ লেনদেনের নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
সুইফট কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক এই ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ করবে বলেও জানিয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, ফ্রেমওয়ার্কটি প্রথমে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে চালু করা হয়েছিল।
সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সম্প্রতি ‘রিয়েল-টাইম গ্লোবাল পেমেন্ট ট্র্যাকিং উইথ সুইফট জিপিআই’ শীর্ষক একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন, সুইফটের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ও সিইও কিরণ শেটটি, এবং সুইফটের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার ও অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর অর্পিতা ঘোষ। এ ছাড়াও ব্যাংকের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের সিইও মাশরুর আরেফিন বলেন, “সুইফট ফ্রেমওয়ার্ক আমাদের আন্তর্জাতিক লেনদেনকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করবে। গ্রাহকরা এখন তাদের অর্থের গন্তব্য স্থানের অবস্থা রিয়েল-টাইমে জানতে পারবেন, যা তাদের জন্য একটি বড় সুবিধা। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা।”
সুইফটের কিরণ শেটটি বলেন, “সিটি ব্যাংকের এই পদক্ষেপ সুইফট জিপিআই ফ্রেমওয়ার্কের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। আমরা আশা করি, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতামূলক করবে।”
উদ্যোগের মূল সুবিধাসমূহ সংক্ষেপে টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| সুবিধা | বিবরণ |
|---|---|
| রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং | আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রতিটি ধাপ মনিটর করা সম্ভব |
| দ্রুত লেনদেন | প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে |
| স্বচ্ছতা | লেনদেনের গতি, খরচ ও অবস্থা সহজে জানা যাবে |
| আন্তর্জাতিক মান | বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের লেনদেন নিশ্চিত হবে |
| গ্রাহক সেবা উন্নয়ন | গ্রাহকদের জন্য সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের অভিজ্ঞতা |
সিটি ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা রিয়েল-টাইম তথ্যের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, যা দেশকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে আরও আকর্ষণীয় করবে।
সার্বিকভাবে, সিটি ব্যাংকের নতুন সুইফট ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং নিরাপদ করে তুলবে, যা গ্রাহক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করবে।
