উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো পর্বের ফিরতি লেগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যানচেস্টার সিটির সামনে এখন এক কঠিন বাস্তবতা—ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানেই জিততে হবে। আর প্রতিপক্ষ যখন রিয়াল মাদ্রিদ, তখন কাজটা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
পরিসংখ্যান বলছে, ফিরতি লেগে সিটির জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সামগ্রিকভাবে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা বেশ কম। অপ্টার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফিরতি লেগে জয়ের সম্ভাবনা ৫৮.৫ শতাংশ হলেও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ১৩.৪ শতাংশ।
সম্ভাবনার হিসাব
| বিষয় | ম্যানচেস্টার সিটি |
|---|---|
| ফিরতি লেগে জয়ের সম্ভাবনা | ৫৮.৫% |
| কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা | ১৩.৪% |
| প্রথম লেগের ফল | ০-৩ ব্যবধানে হার |
এই কম সম্ভাবনার পেছনে রয়েছে ইতিহাসের ভার। ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে প্রথম লেগে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ কখনোই বিদায় নেয়নি। নির্ভুল হিসেবে, এমন ৩৫টি ঘটনার প্রতিটিতেই তারা পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে।
অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারও সিটির জন্য খুব বেশি আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দেয় না। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম লেগে হারের পর তাঁর দল সর্বশেষ ঘুরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে, যখন তিনি বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর পাঁচবার একই পরিস্থিতিতে পড়ে তাঁর দল বিদায় নিয়েছে—যার মধ্যে তিনবারই ছিল ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে।
তবে হতাশার মাঝেও আশার কথা শুনিয়েছেন গার্দিওলা নিজেই। প্রথম লেগের পর তিনি যেখানে সম্ভাবনাকে ‘খুব বেশি নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ছে আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, খেলোয়াড়দের যদি বিশ্বাস না থাকে, তাহলে তাদের মাঠে নামার প্রয়োজন নেই।
গার্দিওলা রিয়াল মাদ্রিদের উদাহরণ টেনে বলেন, ইতিহাসে এই ক্লাব বহুবার অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। তাঁর ভাষায়, “ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমাদের চেষ্টা করতেই হবে—সমর্থক, ক্লাব এবং পেশার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য।”
ফিরতি লেগের আগে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে সতেজ রাখতে ভিন্ন কৌশলও নিয়েছেন সিটি কোচ। অনুশীলনের পরিবর্তে তিনি খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছেন, যাতে তারা চাপমুক্ত অবস্থায় মাঠে নামতে পারে।
তবে কৌশল যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে পারফরম্যান্সের ওপর। বিশেষ করে দলের প্রধান গোলদাতা আর্লিং হলান্ডের ফর্ম বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১৮ ম্যাচে মাত্র ৪ গোল করেছেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার—যা সিটির জন্য উদ্বেগের কারণ।
সব মিলিয়ে, ইতিহাস, পরিসংখ্যান এবং বর্তমান ফর্ম—সবকিছুই সিটির বিপক্ষে গেলেও ফুটবল যে অনিশ্চয়তার খেলা, সেটাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা।
