সিঙ্গাপুরে দ্রুত বর্ধনশীল কোম্পানির সাম্প্রতিক তালিকায় সবচেয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে নির্মাণ ও প্রকৌশল, ফিনটেক এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সফটওয়্যার খাত। দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক দ্য স্ট্রেইটস টাইমস ও বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা স্ট্যাটিস্টার যৌথভাবে প্রস্তুত করা ‘সিঙ্গাপুরস ফাস্টেস্ট গ্রোইং কোম্পানিজ’ তালিকায় এই চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে নির্বাচিত ১০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৩৯ শতাংশই এই তিন খাতভুক্ত।
এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বেশ কিছু কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল। কোম্পানির প্রধান কার্যালয় অবশ্যই সিঙ্গাপুরে থাকতে হবে, ২০২১ সালে ন্যূনতম ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং ২০২৪ সালে অন্তত ১৫ লাখ ডলার রাজস্ব অর্জন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই আয় আসতে হবে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কার্যক্রম ও সম্পদ থেকে; একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ বা অংশীদারিত্বজনিত আয় এতে গণ্য করা হয়নি।
নির্মাণ ও প্রকৌশল খাতে চাহিদার বিস্ফোরণ
২০২৬ সালের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে সৌর প্রকৌশল, নির্মাণ ও প্রোকিউরমেন্ট প্রতিষ্ঠান ক্লিন কাইনেটিকস। মাত্র চার বছর আগে যাত্রা শুরু করা এই কোম্পানির রাজস্ব ২০২১ সালের ৩ লাখ ৬৫ হাজার ডলার থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে—অর্থাৎ প্রায় ৪২ গুণ প্রবৃদ্ধি। প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে প্রায় ১৮০টি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭৮ গিগাওয়াট-ঘণ্টা সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, যা চার কক্ষের প্রায় ১৮ হাজার ফ্ল্যাটের এক বছরের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
নির্মাণ খাতের আরেক উল্লেখযোগ্য নাম কনেক্সাস স্টুডিও, যারা অফিস ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে বিবিসি স্টুডিওস, হিটাচি এশিয়া ও সনির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছে। তাদের রাজস্ব ২০২১ সালের ১ কোটি ৩৮ লাখ ডলার থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে স্থগিত প্রকল্প পুনরায় চালু হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও অভিযোজনক্ষমতার প্রতি গ্রাহকদের ঝোঁকই এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি।
২০২৬ সালের তালিকায় নির্মাণ ও প্রকৌশল খাতের মোট ৯টি প্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে, যা অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি সিঙ্গাপুরের বাড়তে থাকা বিনিয়োগের প্রতিফলন।
ফিনটেক ও আইটি খাতের স্থিতিশীল উত্থান
ফিনটেক খাতে এ বছর তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে, যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। প্রথমবারের মতো তালিকায় এসেছে বিনিয়োগ প্ল্যাটফরম সাইফ (Syfe)। ২০২১ সালে ১৭ লাখ ডলার রাজস্ব থেকে ২০২৪ সালে তাদের আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ডলারে। একইভাবে গ্রোথ ফাইন্যান্সিং প্ল্যাটফরম চোকো আপ ২০২১ সালের ৪৬ লাখ ডলার থেকে ২০২৪ সালে ৬৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-কমার্স, আন্তর্দেশীয় বাণিজ্য এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যা ফিনটেক খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
খাতভিত্তিক অংশগ্রহণের চিত্র
| খাত | তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা | মোট অংশ (%) |
|---|---|---|
| নির্মাণ ও প্রকৌশল | ৯ | ৯% |
| ফিনটেক | ১৩ | ১৩% |
| আইটি ও সফটওয়্যার | ১৭ | ১৭% |
| অন্যান্য খাত | ৬১ | ৬১% |
| মোট | ১০০ | ১০০% |
সব মিলিয়ে, এই তালিকা সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, টেকসই অবকাঠামো ও ডিজিটাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
