মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় এক ফল ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা এবং সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। জমিজমা বিরোধ ও চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই ঘটনায় জামাইসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্তদের চারটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনা মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় সংঘটিত হয়। নিহত জাকির শেখ রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের নুর জামান শেখের ছেলে। তিনি রাজৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপাড়া এলাকার রাসেল বেপারীর ভাই সোহেল বেপারীর বসতঘরে সম্প্রতি চুরি হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার সকালে এলাকার মাতবর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মজিদ খানের পরিবারের সঙ্গে সালিশের আয়োজন করেন। সালিশের নামে ডাক দিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাসেলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। বাধা দেওয়ায় নারীসহ আরও চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।
পরে জামাইয়ের বাড়িতে ফের সালিশে ডাক পাঠিয়ে জাকির শেখকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জাকিরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। আহতদের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আল ইয়াসা জাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে এলাকার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পরিকল্পনা ছিল। দোষীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।”
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | সালিশে ডেকে ফল ব্যবসায়ী কুপিয়ে হত্যা ও সহিংসতা |
| সময় ও স্থান | ২৪ মার্চ সকাল, মধ্যপাড়া, আমগ্রাম ইউনিয়ন, রাজৈর, মাদারীপুর |
| নিহত | জাকির শেখ, ফল ব্যবসায়ী |
| আহত | রাসেল বেপারী ও আরও ৪ জন, নারীসহ |
| অভিযুক্ত | মজিদ খান ও তার পরিবারের সদস্য এবং সমর্থকরা |
| ঘটনার প্রেক্ষাপট | চুরির অভিযোগ ও জমিজমা বিরোধ |
| পুলিশি ব্যবস্থা | অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, তদন্ত চলছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | ক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগানো, ন্যায়বিচারের দাবি |
আহত রাসেল বেপারী অভিযোগ করেছেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সামান্য চুরি নিয়ে এমন নৃশংসতা হবে তা কল্পনাও করা যায়নি। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সালিশের নামে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা গ্রামীণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি। এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ, স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয় এবং সমাজ সচেতনতার বিকল্প নেই।
এই ঘটনায় দেখা যায়, পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা বিরোধ ও সামান্য চুরিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কিভাবে গ্রামীণ এলাকায় জনজীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা ছাড়া এমন নৃশংস ঘটনা রোধ করা কঠিন।
