অ্যানফিল্ডে কি তবে ধীরে ধীরে নামছে এক দীর্ঘ ও সোনালি অধ্যায়ের পর্দা? গত এক দশকে লিভারপুলকে ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়া দুই স্তম্ভ—মোহাম্মদ সালাহ ও ভার্জিল ফন ডাইক—নিয়ে এমন প্রশ্ন এখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ক্লাবের সাবেক স্ট্রাইকার স্ট্যান কলিমোরের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর মতে, আগামী গ্রীষ্মেই লিভারপুল ছাড়তে পারেন এই দুই তারকার একজন বা দুজনই।
মজার বিষয় হলো, মাত্র গত মৌসুমেই সালাহ ও ফন ডাইক ২০২৭ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে সই করেছিলেন। তখন মনে হয়েছিল, অ্যানফিল্ডে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ। কিন্তু কোচ হিসেবে আর্নে স্লট দায়িত্ব নেওয়ার পর লিভারপুলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যে বড় ধরনের রদবদল আসছে, সেটি এখন স্পষ্ট। স্লটের দর্শন তরুণ, গতিশীল ও উচ্চগতির ফুটবল—যেখানে বয়সী তারকাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
গত মৌসুমে প্রায় ২৬ কোটি ইউরো ব্যয়ে সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার ইসাক ও জার্মান মিডফিল্ডার ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে দলে টানে লিভারপুল। এই দুই তরুণকে ঘিরেই ক্লাবের ভবিষ্যৎ নির্মাণের ইঙ্গিত মিলছে। যদিও চোট ও মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জে তাঁদের পারফরম্যান্স এখনো প্রত্যাশার পুরোটা পূরণ করতে পারেনি, তবু ক্লাব যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পথে হাঁটছে, তা স্পষ্ট।
নিচের টেবিলটি লিভারপুলের সাম্প্রতিক তারকা ও নতুন মুখদের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরছে:
| খেলোয়াড় | বয়স (২০২৬) | চুক্তির মেয়াদ | ভূমিকায় গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| মোহাম্মদ সালাহ | ৩৪ | ২০২৭ | আক্রমণের প্রধান মুখ |
| ভার্জিল ফন ডাইক | ৩৫ | ২০২৭ | রক্ষণভাগের নেতা |
| আলেক্সান্ডার ইসাক | ২৬ | ২০৩১ | ভবিষ্যৎ স্ট্রাইকার |
| ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস | ২৩ | ২০৩১ | সৃজনশীল মিডফিল্ড |
কলিমোরের মতে, স্লট যদি সত্যিই ‘লিভারপুল ২.০’ শুরু করতে চান, তবে বড় সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। তিনি মনে করেন, নতুনদের জায়গা পাকাপোক্ত করতে হলে পুরোনো তারকাদের একজনকে বিদায় জানানো অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। সালাহর ক্ষেত্রেই সেই সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তাঁর ধারণা।
সালাহ কেবল লিভারপুলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাই নন, তিনি এক বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। কেনি ডালগ্লিশ, ইয়ান রাশ কিংবা স্টিভেন জেরার্ডদের কাতারে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়। তবে নতুন তারকাদের ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা তৈরি হলে একজন প্রতিষ্ঠিত তারকার মনে অবমূল্যায়নের অনুভূতি জন্ম নিতেই পারে। কলিমোরের ভাষায়, আবেগ নয়, শেষ পর্যন্ত ক্লাবের প্রয়োজনই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে।
ফন ডাইক বয়সের কারণে হয়তো আরও এক মৌসুম সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু সালাহকে ঘিরেই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। সত্যিই কি তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়েই লিভারপুলের এক সোনালি অধ্যায়ের শেষের সূচনা হবে? সেই উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত।
