কারাকাসের নিয়োগপ্রাপ্ত একটি আইনি সংস্থা সোমবার এল সালভাদরের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসিত ২৩৮ ভেনেজুয়েলার নাগরিককে মধ্য আমেরিকার দেশটির এক কুখ্যাত কঠোর কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এএফপি সান সালভাদর থেকে এই খবর জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ মার্চ কোনো আদালতের শুনানি ছাড়াই এই ব্যক্তিদের এল সালভাদরে পাঠানোর জন্য যুদ্ধকালীন একটি আইন প্রয়োগ করেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা সহিংস ট্রেন ডি আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য। তবে তাদের পরিবার এবং আইনজীবীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
একজন মার্কিন ফেডারেল বিচারক বহিষ্কার আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করলেও, এর পরও এই বহিষ্কার কার্যকর হয়। পুরুষদের হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে এল সালভাদরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ‘টেররিজম কনফাইনমেন্ট সেন্টার (সেকোট)’ এ নিয়ে যাওয়া হয়।
সোমবার, আইনজীবী জেইম ওর্তেগা একটি হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করেছেন, যাতে অভিবাসীদের অব্যাহত আটক রাখার ন্যায্যতা দাবি করা হয়েছে।
আদালতে ওর্তেগা বলেন, “তারা আমাদের দেশে কোনও অপরাধ করেনি।”
তিনি বলেন, তাকে ভেনেজুয়েলা সরকার এবং আটক ভেনেজুয়েলার আত্মীয়দের একটি কমিটি নিয়োগ করেছে। তিনি আরো জানান, ৩০ জন বন্দীর পরিবারের কাছ থেকে তার কাছে ম্যান্ডেট রয়েছে, তবে তিনি পুরো দলের মুক্তির জন্য কাজ করবেন।
জাতীয় টিভিতে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে, মাদুরো এল সালভাদরের প্রেসিডেন্টের নাম উল্লেখ করে বলেন, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নেওয়ার এক সপ্তাহ পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা নায়েব বুকেলে কেউই এল সালভাদরে কারা অপহৃত হয়েছে তার তালিকা প্রকাশ করেনি।
সহিংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুকেলে দেশটিতে প্রশংসিত হয়েছেন। হাজার হাজার সন্দেহভাজন গ্যাংস্টারকে সেকোট-এ পাঠানো হয়, যা তিনি বিশেষভাবে তৈরি করেছিলেন।
তবে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযানের সমালোচনা করেছে। গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার সময় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে অনেক হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করা হলেও, খুব কম সংখ্যকই সাড়া পেয়েছে।
