ঢাকার দোহার উপজেলার শাইনপুকুরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর রাফি হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মিজানুর রহমান শাহিনকে বুধবার ভোরে (৮ এপ্রিল) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। তিনি জার্মানিতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
পিবিআইর পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন জানান, ভোর ৪টার দিকে শাহিনকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ধাওয়া করেই আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘ ১১ মাস যাবত পলাতক ছিলেন। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে, আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
মিজানুর রহমান শাহিন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভাতিজা এবং শাইনপুকুর এলাকার আজিজুল রহমান মিরাজের ছেলে। পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২০ মে রাফিকে নির্মমভাবে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের এজাহারে উল্লেখিত অন্যান্য আসামিদের মধ্যে নামীয় শহিদ, টিটু, হুকুম আলী, আলামিন গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। একমাত্র বাতেন নামের আসামি এখনও পলাতক।
পিবিআইর তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার আসামি আলামিনের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডটি মিজানুর রহমান শাহিনের নির্দেশনায় সংঘটিত হয়েছে। পরিদর্শক জামাল উদ্দিন বলেন, “গ্রেফতারের পর এ হত্যাকাণ্ডের আরও বিশদ তদন্তের জন্য সংবাদমাধ্যমকে জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।”
আসামি ও ঘটনার তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| প্রধান গ্রেফতার আসামি | মিজানুর রহমান শাহিন |
| সম্পর্ক | সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভাতিজা |
| হত্যা দিবস | ২০ মে ২০২৫ |
| নিহত | রাফি |
| অন্যান্য গ্রেফতার আসামি | শহিদ, টিটু, হুকুম আলী, আলামিন |
| পলাতক আসামি | বাতেন |
| গ্রেফতারের স্থান ও সময় | শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভোর ৪টা (৮ এপ্রিল) |
| উদ্দেশ্য | জার্মানিতে পালানোর চেষ্টা |
পিবিআইর তরফে জানানো হয়েছে, শাহিনের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের খোঁজে অভিযান চলবে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক জটিলতা রয়েছে বলে সূত্রগুলো মনে করছে।
গ্রেফতার ও আদালতের রিমান্ডের মাধ্যমে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করল। এই ঘটনায় সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশ ও পিবিআই উভয়েই সতর্ক অবস্থায় আছে।
মামলার তদন্তের ফলে আসামিদের দায়ী প্রমাণিত হলে, এটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধরা হবে।
