সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিনের ইন্তেকাল

মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদ আর নেই। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

প্রয়াণ ও অসুস্থতার বিবরণ

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি তিনি তীব্র নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজনৈতিক জীবন ও জনপ্রতিনিধিত্ব

মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আমৃত্যু সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বর্ণাঢ্য জনপ্রতিনিধিত্বমূলক জীবনের একটি চিত্র নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

পদের নামনির্বাচনের ক্ষেত্রসময়কাল ও অর্জন
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানমালখানগর ইউনিয়ন পরিষদরেকর্ড ৫ বার নির্বাচিত
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ৩ বার নির্বাচিত
সংসদ সদস্যমুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর)দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী
দলীয় পদসিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগদীর্ঘকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান

মহিউদ্দিন আহমেদ কেবল একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুন্সীগঞ্জ জেলায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্থানীয় যুবকদের সংগঠিত করা এবং সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের পুনর্গঠনেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

জীবনের শেষ অধ্যায় ও দাফন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে তিনি বেশ কিছুদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে কয়েকটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে আশ্রয় নিতে হয়।

পারিবারিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের কাজীরবাগ গ্রামে নিজ বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার মৃত্যুতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।