সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই ২০২৫-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা শহরের চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল এই তিন আসামির সম্পদও জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আরও চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার রায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

আসামিপদবি (অবসরপ্রাপ্ত)দণ্ডমন্তব্য
হাবিবুর রহমানডিএমপি সাবেক কমিশনারমৃত্যুদণ্ডপলাতক
সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসাবেক যুগ্ম কমিশনারমৃত্যুদণ্ডপলাতক
শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলামরমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনারমৃত্যুদণ্ডপলাতক
মোহাম্মদ ইমরুলরমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার৬ বছরপলাতক
মো. আরশাদ হোসেনশাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক৪ বছরগ্রেপ্তার
মো. সুজন হোসেনসাবেক কনস্টেবল৩ বছরগ্রেপ্তার
ইমাজ হোসেনসাবেক কনস্টেবল৩ বছরগ্রেপ্তার
মো. নাসিরুল ইসলামসাবেক কনস্টেবল৩ বছরগ্রেপ্তার

মামলার চারজন আসামি (হাবিবুর, সুদীপ, আখতারুল ও ইমরুল) পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন আরশাদ, সুজন, ইমাজ ও নাসিরুল।

চানখাঁরপুলের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি দ্বিতীয় রায়। এর আগে ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় ঘোষণা করেছিল, যেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চানখাঁরপুল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল। ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১১ আগস্ট মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় এবং প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ শিক্ষার্থী শাহারিয়ার খান আনাসের বাবা।

প্রসিকিউশন এই মামলায় মোট ২৬ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। যুক্তিতর্ক শেষে ২৪ ডিসেম্বর মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়। ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণা হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৬ জানুয়ারি আজই ঘোষণা করা হলো।