ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড নেইমার আগামী এক বছরের জন্য সান্তোস ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে যাচ্ছেন। এটি তাঁর সান্তোসে তৃতীয় চুক্তি। গত বছর জানুয়ারিতে তিনি প্রথমবার সান্তোসে যোগ দিয়েছিলেন ৬ মাসের জন্য, এরপর জুনে আরও ৬ মাসের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছিলেন। চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে।
নেইমার নবায়ন চুক্তি বিষয়ে বলেছেন, “২০২৬ এসেছে, আর আমার ভাগ্য এর চেয়ে ভালো হতে পারত না। সান্তোসই আমার ঠিকানা। এখানে আমি নিরাপদ ও সুখী বোধ করি। এই ক্লাবে আমার বাকি স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই।”
বর্তমানে নেইমার বাঁ পায়ের আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে রেই পেলি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়েছিলেন এবং ক্লাবের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করেছেন। ক্লাবের চিকিৎসকরা আশা করছেন, জানুয়ারির শেষ দিকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হবেন এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে মাঠে ফিরতে পারবেন।
নেইমারের চুক্তি ও ফিটনেস সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ক্লাব | সান্তোস |
| চুক্তির মেয়াদ | ১ বছর (২০২৬ পর্যন্ত) |
| পূর্ববর্তী সান্তোস চুক্তি | জানুয়ারি ২০২৩: ৬ মাস, জুন ২০২৩: ৬ মাস |
| বর্তমান শারীরিক অবস্থা | বাঁ পায়ের সার্জারির পুনর্বাসন চলছে |
| প্রত্যাশিত মাঠে ফেরার সময় | ফেব্রুয়ারির শুরু |
| জাতীয় দলে শেষ খেলা | অক্টোবর ২০২৩ |
| প্রধান চ্যালেঞ্জ | ফিটনেস ধরে রাখা ও বিশ্বকাপের আগে পারফর্ম করা |
নেইমারের জাতীয় দলের ফিটনেস নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ফিটনেস ফিরিয়ে আনতে না পারলে নেইমার যত বড় নামই হোক না কেন দলে জায়গা পাবেন না। অর্থাৎ, সান্তোসের হয়ে মাঠে খেলে পারফর্ম করে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে নেইমারকে।
নেইমারের ক্যারিয়ারে ফিটনেস ধরে রাখা প্রায়ই চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করেছে। গত দুই বছর ধরে জাতীয় দলে খেলতে পারেননি তিনি। এই চুক্তি নবায়ন মূলত বিশ্বকাপের আগে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ নিশ্চিত করবে। ক্লাব পর্যায়ে পারফর্ম করা, ফিটনেস ধরে রাখা এবং প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করা তাঁর মূল লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেইমারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ফিটনেস বজায় রাখা। ব্রাজিলিয়ান লিগ এবং সান্তোসের মান ইউরোপিয়ান শীর্ষ লিগের তুলনায় কম হলেও, জাতীয় দলে জায়গা নিশ্চিত করতে পারফর্ম করা অপরিহার্য। শেষ মৌসুমে চোট নিয়ে মাঠে নামার পর তিনি দলের অবনমন ঠেকিয়েছিলেন, সেই ধারা বজায় রাখতে পারলেই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হবে।
নেইমারের জন্য এই নতুন চুক্তি শুধু ক্লাব নয়, জাতীয় দলের জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে: বিশ্বকাপের আগে ফিটনেস ও পারফর্মেন্সই হবে মূল চাবিকাঠি। তিনি যদি তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেন, তবে বিশ্বকাপে ফাইনাল স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া সহজ হবে।
