সানিয়া সুলতানা লিজা: ১৭ বছর পরেও মঞ্চে ঝলমল

২০০৮ সালে ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তটি যেন লিজার জীবনের প্রথম সিঁড়ি। সেই ছোট্ট মুহূর্ত থেকে আজ ১৭ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু লিজার আগ্রাসী উদ্যম, মঞ্চের উপস্থিতি এবং ভক্তদের সঙ্গে তার সংযোগ যেন আগের মতোই উজ্জ্বল। লিজার গানের যাত্রা কেবল সংখ্যা বা বছর দিয়ে বোঝা যায় না; এটি অনুভূতি, আবেগ এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞার এক দীর্ঘ গল্প।

সম্প্রতি তিনি প্রকাশ করেছেন নতুন গান ‘নেই অধিকার’। হৃদয় খানের সুরে সাজানো এই গানটি শুধু মেলোডি নয়, বরং একটি গল্প, যেখানে লিজার কণ্ঠের কোমলতা ও শক্তি একসাথে মিলিয়ে শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। গানটি ভিন্নধর্মী, তাই দর্শকরা কেবল শুনছেন না, বরং এক প্রকার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। লিজা নিজেই বলেন, “যে গান মানুষের মনে দীর্ঘদিন থাকবে, সেটাই আমার লক্ষ্য। সামনের গানগুলোও সাধারণ ধারার বাইরে হবে, যেখানে আমি নিজের পছন্দকে প্রথম স্থানে রাখি।”

এ বছরের শুরু থেকেই লিজা দেশ-বিদেশের মঞ্চে নিয়মিত উপস্থিত। চট্টগ্রাম, ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে স্টেজ শো-তে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। মঞ্চে তার উপস্থিতি, অঙ্গভঙ্গি এবং সুরের ছন্দ যেন এক প্রকার ম্যাজিক। তিনি বলেন, “নিয়মিত শো করছি। সামনেও বেশ কিছু অনুষ্ঠান রয়েছে। আশা করছি, মৌসুমটা সুন্দরভাবে পার করতে পারবো।”

একদিকে লিজা প্রতিভার বিচারক হিসেবেও সক্রিয়। আরটিভি লিটল স্টার আগামীর কণ্ঠস্বর প্রতিযোগিতায় খুদে কণ্ঠশিল্পীদের মেধা মূল্যায়ন করছেন তিনি। বরেণ্য শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ এবং জিনিয়া জাহান লুইপা সহ এই বিচারক প্যানেল নতুন প্রতিভার সন্ধান দিচ্ছে। লিজা বলেন, “এখান থেকে অনেক নতুন ও প্রতিভাবান কণ্ঠ বের হবে। আমাদের দায়িত্ব তাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা।”

১৭ বছরের এই যাত্রায় লিজা প্রমাণ করেছেন যে ভালোবাসা, পরিশ্রম এবং শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা এক শিল্পীকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। এখনো তিনি সক্রিয়, নতুন গান প্রকাশ করছেন, স্টেজ শো করছেন, এবং খুদে প্রতিভাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। লিজার জন্য গানের জগৎ কেবল একটি পেশা নয়—এটি একটি ভ্রমণ, একটি আবেগের প্রকাশ, যেখানে প্রতিটি সুরই হৃদয়ের গল্প বলে।