ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেনকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় তাঁর পরিবার শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা থেকে সদর থানায় অবস্থান নেন। স্বজনেরা লাশ নিয়ে মামলার দ্রুত গ্রহণ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। রাত ১০টার দিকে মামলার এজাহার নথিভুক্ত হলে তারা অবস্থান ত্যাগ করেন।
সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্বজনেরা জানিয়েছে, “মামলার কপি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত থানা ত্যাগ করা হবে না।”
মধ্যরাতের ঘটনার সময় সাদ্দাম বাসায় খাচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেন ও সহযোগীরা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান এবং পরে গুলি চালানো হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম দুই কন্যার জনক এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ছিলেন।
ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরিত হয়। এরপর স্বজনেরা বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানান এবং লাশ নিয়ে সদর থানায় অবস্থান নেন। স্থানীয়রা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “স্বজনেরা মামলার জন্য অপেক্ষা করছিলেন; দীর্ঘ সময় পর এজাহার নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন টিম কাজ করছে, এখনও কেউ আটক হয়নি। অস্ত্র উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হবে।”
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে দ্রুত ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে সামাজিক উত্তেজনা এবং এলাকায় অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
