সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সরকারি সাদাপাথর লুট ও জমি দখলের ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিনের পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে গত বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে সাহাব উদ্দিনের সকল পদ স্থগিত করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১ জানুয়ারি থেকে তাঁর পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।”
সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| তারিখ | ঘটনা | পদক্ষেপ / মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১১ আগস্ট ২০২৫ | কেন্দ্রীয় বিএনপি পদ স্থগিত | ‘চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে স্থগিত |
| ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | গ্রেপ্তার | র্যাব-৯ কর্তৃক সাদাপাথর লুট মামলায় গ্রেপ্তার |
| ১৭ মার্চ ২০২৫ | সরকারি জমি দখলের অভিযোগ | ১৫০ একর সরকারি জমি দখলের প্রতিবেদন প্রকাশ |
| ১৮ মার্চ ২০২৫ | উচ্ছেদ অভিযান | সরকারি জমি থেকে প্রায় ৭০ একর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ১০০টি স্টোন ক্রাশার, ৫০টি টিনশেড ঘর ধ্বংস |
| ১৯ মার্চ ২০২৫ | জেলা বিএনপি নোটিশ | কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন |
| ১০ এপ্রিল ২০২৫ | তদন্ত প্রতিবেদন | ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি পরিদর্শন, সাহাব উদ্দিন ও পরিবারের সম্পৃক্ততার প্রমাণসহ প্রতিবেদন দাখিল |
স্থানীয় সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “উপজেলা সভাপতির নেতৃত্বে এমন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হবে, তা কল্পনাও করা যেত না। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও নেতৃত্বের অবমাননা হয়েছে।”
সাহাব উদ্দিনের পদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে দলের মধ্যে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ পদক্ষেপকে ‘দলীয় শৃঙ্খলার পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলেও দলের নীতি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সাথে সহযোগিতা ও সতর্ক নজরদারি জরুরি।
