সাত ম্যাচের সিরিজ জয়ে সোনালি বাংলাদেশ

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ দল আবারও উজ্জ্বল অবদান রাখল। রোববার নেপালের মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টানা সাত ম্যাচ জিতে বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। এই জয়ে নিশ্চিত হলো, দল আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য মূল বিশ্বকাপে অংশ নেবে।

প্রথমে ব্যাট করে নেদারল্যান্ডস মাত্র ১০২ রানে তাদের ইনিংস শেষ করে। শুরুতে ২৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তারা। কিন্তু রবিন রাইক ও সানিয়া খুরানার ৭৮ রানের জুটি দলের ইনিংসকে ১০২ রানে তুলতে সমর্থ হয়। রবিন ৩৯ রান করেন ৪৫ বল খেলে, যেখানে ৪টি চারের সাহায্য নেন। অপরাজিত থাকেন সানিয়া ৩৭ বলে ৪৩ রানে, ৬ চারের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের বোলিংয়ে নাহিদা আক্তারের বাম-হাতি স্পিনে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট শিকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এছাড়া মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও রাবেয়া খান এক করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে শুরুতে দুই উইকেট হারানো দল তৃতীয় উইকেটে জ্যোতি ও শারমিন সুলতানা সুপ্তার ৪২ রানের জুটিতে আবার ব্যাটিংকে সঠিক পথে নিয়ে আসে। সুপ্তা ১৩ রানে আউট হলেও এরপর জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি অবিচ্ছিন্ন ৫৭ রানের জুটি গড়ে জয় নিশ্চিত করেন। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তার ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি। সোবহানা ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

সোবহানা বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে ৭ ম্যাচে ২৬২ রান সংগ্রহ করেন, গড় ৫২.৪০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৫৫।

সারসংক্ষেপে দলটির রেকর্ড:

দলরান/ওভারউইকেটপ্রধান রান সংগ্রাহকপ্রধান উইকেটশিকারী
নেদারল্যান্ডস১০২/৬ (২০ ওভার)রবিন ৩৯, সানিয়া ৪৩*নাহিদা আক্তার ৩, মারুফা, রাবেয়া, স্বর্ণা ১ করে
বাংলাদেশ১০৫/৩ (১৬.৪ ওভার)জ্যোতি ৫০*, সোবহানা ৩৩*আইরিস ১, হিদার ১, লান্ধির ১

ফলাফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী

এর আগে, প্রথম রাউন্ডের চার ম্যাচ ও সুপার সিক্সের তিন ম্যাচ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ বাছাইপর্বে টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত থাকে। বিশেষ করে সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তারের বোলিং ও অধিনায়ক জ্যোতির ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তা এবং দলের সমন্বয় চোখে পড়ার মতো ছিল।

বাংলাদেশ নারী দলের এই ধারাবাহিক সাফল্য দেশের ক্রিকেটে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং মূল বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতার জন্য আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।