সাতকানিয়ায় ট্রাকচাপায় শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্র ভ্রমণে যাচ্ছিলেন এক শিক্ষার্থী, খোরশেদ রাব্বী (২৫), যিনি ট্রাকচাপায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। নিহত রাব্বীর বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী শহরের নিলামপট্টি মহল্লায়।

দুর্ঘটনা বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া এলাকায় ঘটে। নিহত রাব্বী আনন্দমোহন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফজলুর রহমানের সন্তান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাব্বী ও তার চার বন্ধু মঙ্গলবার রাতে একটি মাইক্রোবাসে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ভোরের দিকে তারা সাতকানিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এসময় রাব্বী পেছনের সিটে বসার জন্য গাড়ি থেকে নামেন এবং এক পাশে থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাকে চাপা দেয়, যা তাকে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য করে।

নালিতাবাড়ীতে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্য, সহপাঠী ও এলাকাবাসী শোকপ্রকাশ করেন। স্থানীয়রা জানায়, রাব্বী একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তদান করতেন।

রাব্বীর বড় ভাই উজ্জ্বল বলেন, “সে আমাদের খুব কাছের ছোট ভাই ছিল। সম্প্রতি তার বিয়ে হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে একটি কন্যা সন্তান দান করেছেন। গতকাল রাতে সে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল, আর আজ সকালে তার মৃত্যুর সংবাদ পাই। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। মরদেহ বর্তমানে সাতকানিয়া থানায় রয়েছে এবং হস্তান্তরের বিষয়ে থানার সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, “মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক স্থানের বিষয়ে থানা থেকে আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট এলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিম্নলিখিত টেবিলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

নামবয়সশিক্ষা প্রতিষ্ঠানবিভাগবাড়ি ঠিকানাপরিবারের অবস্থাদুর্ঘটনার স্থান
খোরশেদ রাব্বী২৫আনন্দমোহন কলেজরাষ্ট্রবিজ্ঞান অনার্স ৪র্থ বর্ষনিলামপট্টি, নালিতাবাড়ী, শেরপুরস্ত্রী ও কন্যা সন্তানসাতকানিয়া, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার গুরুত্ব আবারও浮ে উঠেছে, বিশেষত মহাসড়কের ধারে বিশ্রাম নেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা।