সাইফুজ্জামান শিখর (জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯৭০) বাংলাদেশের একজন পরিচিত রাজনীতিবিদ এবং মাগুরা-১ আসনের একাদশ জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত এবং দীর্ঘ সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
Table of Contents
পারিবারিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
সাইফুজ্জামান শিখরের রক্তে মিশে আছে রাজনীতি। তিনি মাগুরার এক কিংবদন্তি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান:
- পিতা: তাঁর পিতা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান ছিলেন মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা এবং মাগুরা-২ আসন থেকে চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি রাজপথের একজন সাহসী নেতা ও ভাষাসৈনিক ছিলেন।
- সহোদর: তাঁর বোন কামরুল লায়লা জলি-ও দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরিবারের এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস শিখরকে রাজনীতিতে বিশেষ অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করেছে।
শিক্ষাজীবন ও ছাত্র রাজনীতি
সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে পড়াশোনা করার সময় তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় পর্যায়ে ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাজনৈতিক ও কর্মজীবন
ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূল রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও আনুগত্যের কারণে তিনি উচ্চ মহলের নজর কাড়েন।
- প্রধানমন্ত্রীর এপিএস: তিনি দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পদে থাকাকালীন তিনি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এবং নিজ জেলায় ব্যাপক প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম হন।
- সংসদ সদস্য নির্বাচন: ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মাগুরা-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি নিজ এলাকায় রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেন।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আইনি জটিলতা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাইফুজ্জামান শিখর বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হন।
- সম্পদ জব্দের আদেশ: ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী সীমা রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং গাড়ি ক্রোকের নির্দেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
- বিদেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা: ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আদালত শিখর ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
- বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একাধিক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
একনজরে সাইফুজ্জামান শিখর
| বিষয় | তথ্য |
| জন্মস্থান | মাগুরা জেলা |
| শিক্ষাগত পরিচয় | রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় |
| পিতা | মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান (প্রাক্তন এমপি) |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| সংসদীয় আসন | মাগুরা-১ (২০১৮-২০২৪) |
| বিশেষ দায়িত্ব | প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস |
| বর্তমান স্থিতি | আইনি কার্যক্রমের আওতাধীন |