২০০৬ সাল। পেপ গার্দিওলা তখন খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে নতুন অধ্যায়ের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ডাগআউটে তাঁর অভিষেক এখনও হয়নি। সেই সময় তিনি ফুটবল কৌশল ও দর্শনের জটিল অলিগলিতে হাতেখড়ি নিচ্ছিলেন। স্প্যানিশ জাতীয় দলের রক্ষণ ভাঙার কৌশল নিয়ে এক পত্রিকায় লিখেছিলেন কলাম। কল্পনাও করতে পারেননি যে দুই দশক পর, ম্যানচেস্টার সিটির সংবাদ সম্মেলনে সেই লেখা আবার আলোচনার কেন্দ্রে আসবে।
আজকার সংবাদ সম্মেলনে, এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিপক্ষ লিগ টুর দল সলফোর্ড সিটি। এক সাংবাদিক সাধারণ প্রশ্নের পরিবর্তে ২০০৬ সালের ওই কলামটি স্মরণ করিয়ে দেন। কলামে গার্দিওলা লিখেছিলেন কীভাবে ‘ফ্লুইড ন্যারো ফ্রন্ট থ্রি’ ব্যবহারের মাধ্যমে শক্ত রক্ষণ ভাঙা সম্ভব।
প্রশ্নটি শোনার পর গার্দিওলা অবাক হলেও আনন্দিত। হাসতে হাসতে তিনি বলেন,
“তুমি কি আমার সহকারী কোচ হতে চাও? অবিশ্বাস্য! তুমি দুর্দান্ত, একদম টপ লেভেল।”
পুরো কক্ষ হাসিতে ভরে ওঠে।
গার্দিওলা আরও ব্যাখ্যা করেন, তাঁর দলের বর্তমান কৌশল উইঙ্গার ও মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হয়। তিনি বলেন,
“আমার যখন ৭০-৮০ বছর বয়স হবে, হয়তো পেছন ফিরে দেখব কত কিছুই না বদলেছে। তবে খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী সিস্টেম বানানোই মূল কাজ।”
আজকের সংবাদ সম্মেলনের আলোচনার মূল বিষয় এবং গার্দিওলার কৌশলগত ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ম্যাচ | ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সলফোর্ড সিটি |
| আসন্ন রাউন্ড | এফএ কাপ চতুর্থ রাউন্ড |
| সাংবাদিকের প্রশ্ন | ২০০৬ সালের কলামের আলোকে আক্রমণভাগের কৌশল |
| গার্দিওলার মন্তব্য | সহকারী কোচ প্রস্তাব, খেলোয়াড় অনুযায়ী সিস্টেম পরিবর্তন |
| মূল কৌশল | ফ্লুইড ন্যারো ফ্রন্ট থ্রি (Fluid Narrow Front Three) |
গার্দিওলার রসিকতা কেবলই সাংবাদিকদের মুগ্ধ করেনি, বরং ফুটবল কৌশলের প্রতি তাঁর অন্তর্দৃষ্টি ও গভীর জ্ঞানও প্রকাশ পেয়েছে। স্প্যানিশ জাতীয় দলের জন্য লেখা কলামটি আজকের ম্যানচেস্টার সিটি সংবাদ সম্মেলনে নতুন প্রাসঙ্গিকতা পেয়েছে, যা প্রমাণ করে তিনি শুধু এক কিংবদন্তি কোচই নন, বরং ফুটবলের ধারাবাহিক গবেষক ও চিন্তাবিদও।
আজকের দিনটি ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মনে রাখার মতো একটি মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
