সরকারি হাসপাতালে দুর্নীতি: দরিদ্র রোগীর ভোগান্তি
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো দারিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য শেষ ভরসা হলেও সেবার আড়ালে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী অনেক ক্ষেত্রে কম পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে বা একেবারেই সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে দরিদ্র রোগীরা ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোগীদের ভোগান্তি
সরাসরি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি জানাতে গিয়ে এক রোগীর পরিবার জানিয়েছেন, “বরাদ্দকৃত খাবার অনেক দিনই দেওয়া হয়নি। আমাদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার আনতে হয়েছে। চিকিৎসা খরচ সামলাতে গিয়ে খাবারের জন্যও বাইরে যেতে হয়। এটি অমানবিক।” সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন রোগীর জন্য নির্দিষ্ট মানের খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে তা পর্যাপ্তভাবে দেওয়া হয় না। এর ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব
প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী থাকলেও রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক সময় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত অর্থের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
ক্রয় কার্যক্রম ও রাজস্ব লোপাট
সরকারি হাসপাতালের ক্রয় কার্যক্রমও দুর্নীতির জেরে অচল। অতিরিক্ত বিল দেখানো, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং কাগজে-কলমে ক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। হাসপাতালের অর্জিত রাজস্বও সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ হচ্ছে।
| অনিয়মের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| খাবার বরাদ্দ | কম পরিমাণ, নিম্নমানের, অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ |
| ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী | রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না, বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে |
| ক্রয় ও খরচ | অতিরিক্ত বিল, নিম্নমানের পণ্য, কাগজে-কলমে অর্থ লোপাট |
| রাজস্ব আয় | সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ |
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীরবতা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনিয়ম সম্পর্কে অবগত থাকলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। বরং দায়িত্বশীলদের একাংশ নীরবতা বা সহযোগিতার মাধ্যমে এই অনিয়মকে টিকিয়ে রাখছে।
জনস্বাস্থ্য সংকট
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে এই ধরনের অনিয়ম শুধুমাত্র দুর্নীতি নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য আশা করে সরকারি হাসপাতালের দিকে তাকালে সেবা না পেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা অনলাইনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, এটি বৃহৎ স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হবে।”
