সরকারি স্থাপনায় নির্বাচনী কার্যালয়, হাতপাখা প্রার্থী জরিমানা

টাঙ্গাইল-২ আসনের ভূঞাপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের সংসদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন সাগরকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাজিব হোসেন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এই জরিমানা আদেশ দেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রার্থী মনোয়ার হোসেন ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি মার্কেটের সরকারি স্থাপনায় নির্বাচনী অফিস স্থাপন করেছিলেন। সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে জরিমানা করে দণ্ডিত করেছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাজিব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,
“সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো আইনবিরুদ্ধ। আমরা কঠোরভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত আচরণবিধি প্রয়োগ করি। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে প্রার্থীকে ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হলো।”

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি সম্পদ বা স্থাপনা ব্যবহার করে নির্বাচনী অফিস খোলা বা প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ। এই ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শুধু জরিমানা নয়, প্রার্থীকে আদালতের মাধ্যমে আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্মুখীন হতে হতে পারে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে একটি শক্ত সঙ্কেত প্রদান করছে যে নির্বাচন স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে।

নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

বিষয়তথ্য
প্রার্থীহাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন সাগর
দলইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
প্রতীকহাতপাখা
আসনটাঙ্গাইল-২, ভূঞাপুর উপজেলা
ঘটনাসরকারি স্থাপনায় নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন
প্রশাসনিক পদক্ষেপভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা
জরিমানার পরিমাণ১০,০০০ টাকা
আদালত পরিচালনাএক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাজিব হোসেন
তারিখ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই পদক্ষেপ নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে প্রশাসনের জোরালো মনোভাবের প্রতিফলন। ভূঞাপুরের সাধারণ জনগণ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছে। তারা আশা করছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারি সম্পদ ব্যবহার ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন আরও কঠোর হবে।

একই সঙ্গে প্রশাসন স্থানীয় প্রার্থীদের সতর্ক করেছে যে, সরকারি স্থাপনা বা সরকারি সম্পদের ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে থাকবে।