সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ

আজ থেকে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চার দফা দাবিতে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত রাখা হবে। শিক্ষকদের দাবি ও কর্মসূচি পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি

শিক্ষকদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

  1. সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা।

  2. পদোন্নতি ও শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ কার্যকর করা।

  3. বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুরি।

  4. সহকারী শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বজায় রাখা।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সরকার দাবিগুলো পূরণ করলে শিক্ষকরা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো ব্যবহার করে স্থগিত পরীক্ষা শেষ করবেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করবেন। তবে দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতি চলমান থাকবে।

বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও বেতন-ভাতাসংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে মুলতুবি রয়েছে। গত রবিবারও আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ সাপেক্ষে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না হওয়ায় আজ থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছি।”

উল্লেখযোগ্য, কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম প্রভাবিত হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য পরীক্ষা স্থগিত থাকা এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে।

নিচের টেবিলে কর্মবিরতি ও শিক্ষকদের দাবিসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
কর্মসূচির ধরনপূর্ণ দিবস কর্মবিরতি
প্রভাবচলমান বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত
শিক্ষকদের মূল দাবিসহকারী শিক্ষক পদ বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত, পদোন্নতি ও শূন্য পদে নিয়োগ, বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড, বেতন-সুবিধা বজায় রাখা
ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনাদাবিপূর্ণ হলে ডিসেম্বরের মধ্যে
পূর্ববর্তী কর্মসূচিরবিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন
নেতৃত্ববাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষকদের এই কর্মবিরতি শিক্ষার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেললেও, এটি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও মর্যাদা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শিক্ষকদের পেশাগত স্থিতিশীলতা, বেতন-ভাতাসংক্রান্ত সমস্যা এবং পদোন্নতির অভাব দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই অবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান ও পরীক্ষার স্বচ্ছতাও প্রভাবিত হতে পারে।

সংগঠন আশ্বাস দিয়েছে, যদি সরকার দাবি পূরণ করে, তবে কর্মবিরতি স্থগিত হবে এবং পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। অন্যথায়, শিক্ষকরা দাবিতে অটল থাকবেন এবং কর্মবিরতি চলমান রাখবেন।