সরকারি ব্যাংকের শেয়ারে বাজেট প্রভাব স্পষ্ট

ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (FY27) ইউনিয়ন বাজেট ঘোষণার পর দেশের সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর (PSU Banks) শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। আজ, ১ ফেব্রুয়ারি, নিফটি পিএসই ব্যাংক সূচক দিনে প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইন্ট্রাডে সূচক সর্বনিম্ন ৮,৩৮৭.৯৫ পয়েন্টে নেমেছে, যা গত সেশনের ক্লোজ ৯,০১৯.৩৫ পয়েন্টের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম। দুপুর ২টার দিকে সূচক ৮,৬৮৪.৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছিল, যা ৩৩৪.৪০ পয়েন্ট বা ৩.৭১ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।

সব প্রধান সরকারি ব্যাংকই লেনদেনে নিম্নমুখী অবস্থানে ছিল। প্রধান ব্যাংকগুলোর শেয়ারের পতনের পরিসর ৩ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে।

সরকারি ব্যাংকের শেয়ারের পতন

ব্যাংকের নামশেয়ারের পতন (%)
Bank of India৫.৮
Bank of Maharashtra৫.২
Indian Bank৪.৯
Bank of Baroda৬.৩
Union Bank of India৬.৭
State Bank of India৭.০
Indian Overseas Bank৩.০
Central Bank of India৩.২
Punjab & Sind Bank৩.১
Canara Bank২.৯
Punjab National Bank৩.০
UCO Bank৩.০

শেয়ারের এই পতনের মূল কারণ হিসেবে বাজেটে ঘোষিত বড় ঋণসংগ্রহ এবং সরকারি নীতি উল্লেখ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার FY27-এর জন্য বাজার থেকে সর্বাধিক ১৭.২ ট্রিলিয়ন টাকা ঋণ নেবে। একই সঙ্গে FY27-এর মূলধন ব্যয় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দেশের অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী উচ্চস্তরের একটি ব্যাংকিং কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন। এই কমিটি দেশের ব্যাংকিং খাতের কাঠামো, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি মূল্যায়ন করবে। সীতারামন বলেন, “বর্তমান ব্যাংকিং খাত শক্তিশালী ব্যালান্সশিট, উন্নত সম্পদ মান এবং ভারতের ৯৮ শতাংশ গ্রামেরও বেশি আঞ্চলিক কাভারেজের মাধ্যমে চিহ্নিত।”

বাজার বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, বাজেট ঘোষণার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় শেয়ারসমূহে পতন হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সংস্কার এবং বিনিয়োগ প্রেরণা সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যকারিতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াবে। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, পিএসই ব্যাংক ও পাবলিক সেক্টর নন-ব্যাঙ্কিং ফাইনান্সিয়াল কোম্পানিগুলো (NBFCs)-এর শক্তিশালীকরণ, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সুশাসন দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো ও অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের জন্য মূলধন পৌঁছাতে সহায়ক হবে, এবং এটি আর্থিক স্থিতিশীলতা বা গ্রাহক সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

সুতরাং, বাজেট ২০২৬-এর প্রাথমিক প্রভাব হিসেবে সরকারি ব্যাংকের শেয়ার পতিত হলেও, ধারাবাহিক সংস্কার ও নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারতের ব্যাংকিং খাতকে “উন্নত ভারত” লক্ষ্য অনুযায়ী শক্তিশালী ও টেকসই করার সম্ভাবনা রয়েছে।