সরকারি কলেজে শিক্ষকদের দীর্ঘ গ্রীষ্ম-শীতকালীন ছুটি বাতিল সিদ্ধান্ত

সরকারি কলেজের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রথাগতভাবে চালু থাকা গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে, যেখানে এসব পদকে ‘নন-ভ্যাকেশন’ হিসেবে গণ্য করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সরকারি কলেজের শিক্ষকরা আর দীর্ঘমেয়াদি গ্রীষ্ম বা শীতকালীন ছুটি ভোগ করতে পারবেন না এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো নির্ধারিত ২০ দিনের বার্ষিক ছুটির আওতায় থাকবেন।

রোববার (২৯ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক স্মারকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্মারকে বলা হয়েছে, নতুন নীতি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকরা শিক্ষা ও প্রশাসনিক দায়িত্বে আরও নিয়মিত এবং গতিশীলভাবে কাজ করতে পারবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘকালীন গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটি শিক্ষকরা এক ধরনের বিশেষ সুবিধা হিসেবে ভোগ করতেন। কলেজ বন্ধ থাকার কারণে এই ছুটি প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে এই দীর্ঘছুটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং শিক্ষকদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজের মান কমিয়ে দিচ্ছে।

স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৫৯ সালের ছুটি বিধিমালা অনুযায়ী অবকাশকালীন কর্মচারীদের ছুটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শের ভিত্তিতে জনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের বার্ষিক ছুটির নীতি অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের সমপর্যায়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষা খাতকে সরাসরি ‘নন-ভ্যাকেশন’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা কিছুটা জটিল হলেও বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ও কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের অর্জিত বার্ষিক ছুটি এবং শ্রান্তি বিনোদন ছুটি সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকদের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের সমমর্যাদায় আনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ধারাবাহিক ও প্রতিক্রিয়াশীল রাখা।

নিচে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের ছুটি সংক্রান্ত মূল তথ্য সংক্ষেপে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
প্রভাবিত গ্রুপবিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ও কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা
পূর্ববর্তী সুবিধাদীর্ঘমেয়াদি গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ছুটি
নতুন নীতি‘নন-ভ্যাকেশন’ হিসেবে গণ্য করা হবে
বার্ষিক ছুটি সীমাঅন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো ২০ দিন
লক্ষ্যশিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে আরও নিয়মিত রাখা
প্রশাসনিক সংযোগজনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ
প্রেক্ষাপট১৯৫৯ সালের ছুটি বিধিমালা পুনর্বিবেচনা ও আধুনিকীকরণ

সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি গ্রীষ্ম-শীতকালীন ছুটি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত থাকবেন এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজের মান উন্নত হবে। পাশাপাশি, সরকারি কর্মকর্তাদের মতো বার্ষিক ছুটির সমতা নিশ্চিত হওয়ায় প্রশাসনিক ন্যায়বিচার ও সমতার দৃষ্টিকোণ বজায় থাকবে।