সমুদ্রপথে অবৈধ যাত্রা: নৌবাহিনী আটক করেছে ২৭৩ জন

বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় শনিবার দিবাগত রাতে ২৭৩ জনকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় ধাওয়া করে একটি কাঠের নৌকা থেকে ধরা পড়েন।

আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) নৌবাহিনী থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছেন যে তারা মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নৌকায় উঠেছিলেন।

নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাহাজ ‘বানৌজা স্বাধীনতা’ অভিযান পরিচালনা করে। সেন্ট মার্টিন থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থানরত কাঠের নৌকার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নৌকাটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু নৌকাটি সেই সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর নৌবাহিনী ধাওয়া দিয়ে নৌকাটিকে আটক করে।

নৌকায় থাকা ২৭৩ জনের মধ্যে ১০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে দালাল হিসেবে, বাকিরা ছিলেন মানবপাচারের শিকার। নৌবাহিনী জানায়, নৌকাটি যাত্রা শুরু করেছে ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত খাবার, পানি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই, যা গভীর সমুদ্রে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারত।

আটককৃতদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ :

ধরনসংখ্যাবিবরণ
মানবপাচারের শিকার২৬৩অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে নৌকায় যাত্রা করেছিলেন
দালালচক্র১০আটককালে চিহ্নিত, মানবপাচারকারী হিসেবে শনাক্ত
মোট আটক২৭৩সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্র থেকে আটক করা হয়েছে

নৌবাহিনী সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই ধরনের অবৈধ যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং গভীর সমুদ্রে প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দালালচক্রকে গ্রেফতারের মাধ্যমে এই ধরনের মানবপাচারের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এ ঘটনায় নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে সমুদ্রপথে নজরদারি চালিয়ে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ করবে। জনগণকেও এ ধরনের যাত্রা থেকে বিরত থাকতে এবং আইনগতভাবে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নৌবাহিনীর এই অভিযান মানবপাচার প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যা অপরাধী চক্রের জন্য কঠোর সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।