কবির মর্যাদা ও সাহিত্যিক অবদানের স্বীকৃতিতে ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর অবশেষে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনীত হলেও নির্ধারিত দিনে কবি মোহন রায়হানকে পুরস্কার না দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ওঠে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২ মার্চ বাংলা একাডেমিতে কবির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
মনোনয়ন ও বিতর্কের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এর জন্য মোট ১০ জন লেখক মনোনীত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মোহন রায়হানসহ ৯ জনকে ইতিমধ্যেই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু রায়হানের ক্ষেত্রে এটি স্থগিত রাখা হয়েছিল। নতুন সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তখন উল্লেখ করেছিলেন, কবির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে। তাই তা খতিয়ে দেখে পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ সমালোচনা এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোহন রায়হানের পুরস্কার দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংস্কৃতি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে কবিকে পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”
পুরস্কার প্রদান সংক্রান্ত বিস্তারিত
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাপক | মোহন রায়হান |
| পুরস্কারের নাম | বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ |
| পুরস্কার প্রদান তারিখ | ২ মার্চ ২০২৬ |
| সময় | বেলা ১১টা |
| অনুষ্ঠানস্থল | বাংলা একাডেমি, ঢাকা |
| কার্যনির্বাহী কর্তৃপক্ষ | সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় |
| তত্ত্বাবধায়ক | প্রধানমন্ত্রী সম্মতিক্রমে মন্ত্রণালয় |
মোহন রায়হান বর্তমানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি। তিনি আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন-কে জানিয়েছেন, “পুরস্কার নেব কি নেব না, তা জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভার পর সিদ্ধান্ত জানাব।” আজ বিকেলে কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় ও জাতীয় সাহিত্য মহলে মোহন রায়হানের দীর্ঘ সাহিত্যকর্ম ও কবিতার অবদানের জন্য পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। বাংলা একাডেমি, যা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান, তার মাধ্যমে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
এ ঘটনায় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই বলেছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী উদাহরণ, যা সাহিত্যিকদের যথাযোগ্য মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করে। পাশাপাশি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে আশা করা যাচ্ছে, মোহন রায়হান এবং অন্যান্য মনোনীত কবিদের মধ্যে সাহিত্য সৃষ্টির নতুন উদ্যম সৃষ্টি হবে।
