সমালোচনায়ও ভালোবাসা দেখছেন মীর স্নিগ্ধ

বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। তবে তিনি বলছেন, এই সমালোচনায় তিনি রাগ না দেখে ভালোবাসাই খুঁজে পাচ্ছেন। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সেই অনুভূতির কথাই জানিয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত মীর মুগ্ধর ভাই স্নিগ্ধ লিখেছেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমি আপনাদের সব মন্তব্য পড়েছি। কেউ ভালোবাসা দিয়েছে, কেউ সাহস জুগিয়েছে, আবার কেউ রাগ ঝেড়েছে। কেউ বলছে আমি ‘ভাইয়ের রক্ত বেচে খাচ্ছি’, কেউ বলছে ‘অযোগ্য’, কেউ বলছে ‘ক্ষমতার লোভী’। কিন্তু সত্যি বলি, একটুও রাগ হয়নি। বরং মনে হয়েছে, আপনাদের এই বকাবকিটাও ভালোবাসা। কারণ, যে মানুষটিকে আপনি আপন মনে করেন, তাকেই তো শাসন করেন।”

তিনি লিখেছেন, “আমি তো রাজনীতিবিদ হয়ে জন্মাইনি। কয়েক মাস আগেও আমি আপনাদের মতোই সাধারণ এক ছেলে ছিলাম। পড়াশোনা শেষ করে নিজের মতো জীবন গড়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু জুলাইয়ের সেই দিনটা—সেই একটি গুলি আমার ও আমাদের পরিবারের সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে।”

স্নিগ্ধ লিখেছেন, “যখন কেউ বলে আমি ‘ভাইয়ের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করছি’, তখন মনে হয় বুকটা ফেটে যাবে। মনে হয়, এর চেয়ে যদি ওই গুলিটা আমাকেই লাগত! মাঝে মাঝে মনে হয়, বেঁচে থাকাটাই অপরাধ।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, “আমি রাজনীতিতে এসেছি কোনো শখ থেকে নয়। শত শত আহত ভাইদের আর্তনাদ শুনে বুঝেছি, শুধু কান্না দিয়ে বিচার পাওয়া যায় না। বিচার চাইলে সিস্টেম বদলাতে হয়—আর এজন্যই আমাকে সেই জায়গায় যেতে হয়েছে, যেখানে আইন তৈরি হয়।”

নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে তিনি লেখেন, “আমি অভিজ্ঞ নই। রাজনীতির চালাকি জানি না। আমি ভুল করব, হয়তো হোঁচট খাব। কিন্তু একটা কথা দিচ্ছি—ভুল হলে আপনারা যেমন গালি দেন, তেমনই শাসন করবেন, ঠিক পথে ফেরাবেন। আপনাদের এই অভিমানমিশ্রিত মন্তব্যগুলোই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমি পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।”

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাবেক এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও লিখেছেন, “যারা আমাকে ভালোবাসেন আর যারা আমাকে ঘৃণা করেন, দু’পক্ষই একই জিনিস চান—মুগ্ধর আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। আমিও তাই চাই।”

শেষে তিনি লেখেন, “চলুন না, এই অভিমানের এনার্জিটাকেই আমরা দেশ গড়ার কাজে লাগাই? আমি আপনাদের নেতা হতে আসিনি, আমি এসেছি আমাদের হারিয়ে যাওয়া ভাইবোনদের অসমাপ্ত যাত্রার সহযাত্রী হতে। আমি থাকব—সব গালি, সব অপমান সহ্য করে। কারণ, আমি হেরে গেলে, আপনি হেরে গেলে, আমরা হেরে গেলে—হেরে যাবে মুগ্ধ, হেরে যাবে আবু সাঈদ, হেরে যাবে জুলাই।”