জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। গত রবিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সমাধানের সংকেত দেখা যায়নি। বরং সনদ বাস্তবায়ন ও রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকার দ্রুত নতুন আলোচনা শুরু করতে পারে।
আইন মন্ত্রণালয় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। খসড়া আদেশটি আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উপস্থাপন হতে পারে। চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল বিষয়গুলো হলো: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, গণভোটের সময় নির্ধারণ, এবং সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এই সনদ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেছে।
সরকার ৩ নভেম্বর দলগুলোকে আহ্বান জানায় দ্রুত অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য। দলগুলো আলোচনা ও বৈঠক করলেও সমাধান হয়নি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ সংলাপের পর প্রণীত জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো নতুনভাবে সমঝোতায় আসেনি।
ফলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বিরোধ বেড়েছে। দুই দলই গণভোটের পক্ষে থাকলেও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে এক দিনে গণভোট চাইছে। তারা দাবী করছে, নোট অব ডিসেন্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলো গণভোট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অন্যদিকে জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চাইছে এবং তাদের দাবি, গণভোট প্রস্তাবে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না।
জামায়াতসহ আটটি ইসলামী দল পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। বিএনপি ও অন্যান্য দল এটিকে নির্বাচনের বিলম্বের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ছাড়া গণভোটের বিকল্প নেই। সংসদের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।’ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনমত তৈরি করছি।’ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ‘দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সরকার দায়বদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।’
জিলাইভ/টিএসএন
