সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে প্রবেশ বাধ্যতামূলক ঘোষণা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (প্রশাসন) কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯”-এর প্রযোজ্য ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত কাজগুলো অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে:

  1. বিনা অনুমতিতে কর্মে অনুপস্থিতি

  2. বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ

  3. বিলম্বে অফিসে উপস্থিতি

অতএব, সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রত্যেক কর্মদিবসে সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস চলাকালীন সময়ে, অর্থাৎ পবিত্র মাহে রমজানে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট এবং রমজান-পরবর্তী সময়ে বিকেল ৫টার আগে কেউ দপ্তর ত্যাগ করতে পারবে না।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন বা দাপ্তরিক কাজের জন্য অফিস ত্যাগ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবশ্যই:

  • নিজ অনুবিভাগের প্রধান (যুগ্ম সচিব/সলিসিটর)-এর অনুমতি নিতে হবে।

  • অফিস ত্যাগের রেজিস্টারে রেকর্ড করতে হবে।

  • ডিজিটাল হাজিরা সিস্টেমে অফিস ত্যাগের এন্ট্রি প্রদান করতে হবে।

যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি বিনা অনুমতিতে অফিসে অনুপস্থিত থাকে, অফিস ত্যাগ করে বা দেরিতে উপস্থিত হয়, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কর্মদিবস শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মূল নির্দেশিকা

বিষয়নির্দেশনাপ্রযোজ্য সময়কাল / শর্ত
অফিসে উপস্থিতিসকাল ৯টার মধ্যে দপ্তরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলকপ্রতিদিন
অফিস ত্যাগবিনা অনুমতিতে ত্যাগ শাস্তিযোগ্যঅফিস সময়ের মধ্যে
বিশেষ অনুমতিঅনুবিভাগ প্রধানের অনুমতি প্রয়োজনজরুরি বা দাপ্তরিক প্রয়োজনে
রেকর্ড প্রণয়নঅফিস ত্যাগের রেজিস্টার এবং ডিজিটাল হাজিরায় এন্ট্রি বাধ্যতামূলকপ্রতিটি ত্যাগের জন্য

অফিস শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কর্মদিবসের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য। মন্ত্রণালয় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মিত উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য সতর্ক করেছে।

সার্বিকভাবে, এটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা অফিস কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।