সকালে চা খাওয়ার অভ্যাস এবং তার স্বাস্থ্যঝুঁকি

শীতের সকাল হোক বা সন্ধ্যার হালকা ঠাণ্ডা, বহু মানুষের দিনের শুরু হয় এক কাপ গরম চা দিয়ে। চা স্বাদ, উষ্ণতা এবং সতেজতা প্রদান করে, ক্লান্তি কমায়, মনকে সতেজ রাখে এবং মেজাজ উন্নত করে। তবে ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খালি পেটে চা পান স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ইনস্টিটিউট অব লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেস (আইএলবিএস)-এর পরিচালক ও লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শিবকুমার সারিন সম্প্রতি বলেন, “খালি পেটে চা পান হজমতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্র ও লিভারের ক্ষতি করতে পারে।”

ডা. সারিন ব্যাখ্যা করেন, ঘুম থেকে ওঠার পর গ্যাস্ট্রো-কোলিক রিফ্লেক্স সক্রিয় হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা খাবার বা পানীয় গ্রহণের সঙ্গে কোলনে সংকোচন ঘটিয়ে মলত্যাগের তাগিদ সৃষ্টি করে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই মলত্যাগের প্রবণতা থাকে।

খালি পেটে চা পানের প্রভাব ও ঝুঁকি

চা খালি পেটে পান করলে চায়ের ট্যানিন ও ক্যাফেইন পাকস্থলীর আস্তরণে প্রভাব ফেলে। ফলে গ্যাস, বুকজ্বালা, বদহজম, এসিড রিফ্লাক্স এবং হজমজনিত অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ক্যাফেইন শরীরে এসিড উৎপাদন বাড়িয়ে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের শোষণ কমিয়ে রক্তাল্পতার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি লিভারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিম্নের টেবিলে খালি পেটে চা পানের সম্ভাব্য প্রভাবগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:

প্রভাবকারণসম্ভাব্য সমস্যা
পাকস্থলীর জ্বালাচায়ের ট্যানিনবুকজ্বালা, গ্যাস, বদহজম
এসিড বৃদ্ধিচায়ের ক্যাফেইনএসিড রিফ্লাক্স, হজমজনিত সমস্যা
খনিজ শোষণ কমে যাওয়াআয়রন ও ক্যালসিয়াম শোষণ ব্যাহতরক্তাল্পতা
যকৃতের স্বাস্থ্যদীর্ঘমেয়াদি হজমজনিত চাপলিভার সমস্যা
ঘুমের ব্যাঘাতক্যাফেইনঅল্প ঘুম, বিশ্রামের অভাব

ডা. সারিন পরামর্শ দেন, চায়ের ওপর নির্ভর না করে সকালে অন্ত্র ও হজমতন্ত্র সচল করার জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে:

  • গরম পানি পান

  • হালকা ব্যায়াম

  • ফলমূল বা ফাইবারযুক্ত খাবার

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সকালের চা যেন স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ হয়, তাই খাবারের পর বা হালকা নাস্তার সঙ্গে চা পান করা উত্তম। চায়ের প্রতি আসক্তি নয়, বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।

সারসংক্ষেপে, ঘুম থেকে উঠে চা খাওয়ার আগে অন্ত্র ও হজমতন্ত্র সচল করা, এবং প্রাকৃতিক রুটিন অনুসরণ করা স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। এতে শরীর সুস্থ থাকে, হজম শক্তিশালী হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও হজমতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়।