বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ এবং বিএনপির দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পরবর্তী নবগঠিত সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদের কাঁধে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং আধুনিকায়নের গুরুভার ন্যস্ত হওয়ায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
Table of Contents
নির্বাচনী ফলাফল ও বিজয়
মাগুরা-২ (মহম্মদপুর-শালিখা) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হয়েছেন নিতাই রায় চৌধুরী। তাঁর এই বিজয় দীর্ঘ কয়েক দশকের নির্বাচনী লড়াইয়ের এক সার্থক প্রতিফলন।
একনজরে মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনী পরিসংখ্যান:
| প্রার্থীর নাম | রাজনৈতিক দল/প্রতীক | প্রাপ্ত ভোট |
| অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী | বিএনপি (ধানের শীষ) | ১,৫০,১৮০ |
| মুশতারশেদ বিল্লাহ | ১১ দলীয় জোট (দাঁড়িপাল্লা) | ১,১৭,৮০৭ |
| ভোটের ব্যবধান | – | ৩২,৩৭৩ |
রাজনৈতিক জীবনের পথপরিক্রমা
১৯৪৯ সালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নিতাই রায় চৌধুরী। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। পেশায় আইনজীবী এই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে আইন পেশার পাশাপাশি দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
তিনি ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে এরশাদ সরকারের আমলে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিক ও সামাজিক পরিচিতি
নিতাই রায় চৌধুরীর পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর স্ত্রী ঝুমা রায় চৌধুরী। এই দম্পতির দুই পুত্র ও তিন কন্যা রয়েছে। তাঁর বড় মেয়ে নিপুণ রায় চৌধুরী বর্তমানে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন। নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ। ফলে দেশের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান।
প্রত্যাশা ও আগামীর কর্মপরিকল্পনা
সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে নিতাই রায় চৌধুরী মন্ত্রণালয়ের হাল ধরেছেন। তাঁর সাথে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
নতুন মন্ত্রীর কাছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রধান প্রত্যাশাগুলো হলো:
সাংস্কৃতিক জাগরণ: তৃণমূল পর্যায়ে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দেওয়া।
অবকাঠামো উন্নয়ন: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি ও গণগ্রন্থাগারগুলোর আধুনিকায়ন।
চলচ্চিত্র ও থিয়েটার: ঝিমিয়ে পড়া চলচ্চিত্র শিল্প এবং মঞ্চ নাটককে পুনরুজ্জীবিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সুস্থ ও রুচিশীল সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিত করা।
দীর্ঘ কয়েক দশকের সংসদীয় ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে একটি গতিশীল ও সৃজনশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজ আশা প্রকাশ করছে।
