মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরগি। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর একটি হওয়ায় এ আয়োজন বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই এবং বর্তমান পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক হবে বলে ফিফা আশাবাদী।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস শহরে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় শিরগি সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বকাপ এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজন যেখানে কোটি কোটি মানুষ জড়িয়ে থাকে—খেলোয়াড়, দর্শক, সম্প্রচারকারী এবং স্পনসরসহ নানা পক্ষ। তাই একটি অঞ্চলের সংঘাতের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি আরও জানান, ফিফা আন্তর্জাতিক অংশীদার, আয়োজক দেশ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়টি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কিছু মহলে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ফিফা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের অংশগ্রহণ বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তারা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক ও ক্রীড়া পর্যায়ে সমন্বয় করবে।
ইরান ইতোমধ্যেই এশিয়ান বাছাইপর্ব সফলভাবে অতিক্রম করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়াম, ওশেনিয়া অঞ্চলের নিউজিল্যান্ড এবং আফ্রিকার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিশর। এই গ্রুপের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি ম্যাচ সিয়াটলে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট | ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ |
| আয়োজক দেশ | যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডা |
| অংশগ্রহণকারী দল | ৪৮টি |
| ইরানের গ্রুপ | গ্রুপ ‘জি’ |
| প্রতিপক্ষ | বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, মিশর |
| সম্ভাব্য ভেন্যু | লস অ্যাঞ্জেলেস, সিয়াটল |
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো এতে অংশ নেবে ৪৮টি দল, যা আগের আসরগুলোর তুলনায় ১৬টি বেশি। একই সঙ্গে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ মিলিতভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। নতুন এই ফরম্যাট বিশ্ব ফুটবলের ভৌগোলিক বিস্তার ও প্রতিযোগিতার বৈচিত্র্য বাড়াবে বলে মনে করছে ফিফা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি বৈশ্বিক সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং কূটনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই আঞ্চলিক সংঘাত সত্ত্বেও এই আয়োজন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
