শ্রীলঙ্কা ম্যাচে স্মিথ অস্ট্রেলিয়া দলে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে থাকার কঠিন সমীকরণ সামনে রেখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়া দলে বড় পরিবর্তন এনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অভিজ্ঞ ব্যাটার **স্টিভেন স্মিথ**কে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে। দলটির লক্ষ্য স্পষ্ট—যে কোনো মূল্যে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে নিজেদের ধরে রাখা।

৩৬ বছর বয়সী স্মিথ মূলত কভার খেলোয়াড় হিসেবে শ্রীলঙ্কায় দলের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। তবে অধিনায়ক মিচেল মার্শ কুঁচকিতে আঘাত পেয়ে জটিল চোটে পড়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ‘টেস্টিকুলার ব্লিডিং’ হয়েছে, যা থেকে দ্রুত সেরে ওঠা কঠিন। একই সঙ্গে অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস–এর ফিটনেস নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে অভিজ্ঞতা ও ব্যাটিং স্থিতিশীলতা বাড়াতে স্মিথকে সক্রিয় স্কোয়াডে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া।

এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বোলার জশ হ্যাজলউড–এর পরিবর্তে স্মিথকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হ্যাজলউড টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ছিটকে গেলেও তখন বদলি নেওয়া হয়নি। নির্বাচক টনি ডোডেমাইড বলেন, দলে ফিটনেস অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় প্রয়োজনীয় বিকল্প হিসেবে স্মিথকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল; এখন তাকে পূর্ণ সদস্য করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অবস্থা

চলতি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স প্রত্যাশার তুলনায় ওঠানামা করেছে। প্রথম ম্যাচে তারা আয়ারল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারালেও দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয় দলটির আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দেয়। তার আগে প্রস্তুতি সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়াও চাপ বাড়িয়েছে।

নিচে টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ফলাফল তুলে ধরা হলো:

ম্যাচপ্রতিপক্ষফলাফলউল্লেখযোগ্য তথ্য
১ম ম্যাচআয়ারল্যান্ড৬৭ রানে জয়ব্যাটিং ও বোলিং সমন্বিত পারফরম্যান্স
২য় ম্যাচজিম্বাবুয়ে২৩ রানে হার১৪৬ রানে অলআউট
প্রস্তুতি সিরিজপাকিস্তান০-৩ ব্যবধানে হারআত্মবিশ্বাসে প্রভাব

স্মিথের ফর্ম ও অভিজ্ঞতা

স্মিথ সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে তার উপস্থিতি সীমিত, জানুয়ারিতে বিগ ব্যাশ লিগে ছয় ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি করে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের জানান দেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইনিংস গড়ে তোলার ক্ষমতা ও চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাকে বিশেষভাবে মূল্যবান করে তুলেছে।

সমীকরণ ও সম্ভাবনা

শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গেলে এবং জিম্বাবুয়ে যদি আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান গ্রুপপর্বেই শেষ হয়ে যাবে। এমনকি শেষ দুই ম্যাচ জিতলেও নেট রানরেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে কেবল জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়ও প্রয়োজন হতে পারে।

সবকিছু বিবেচনায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রকৃত অর্থেই ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। অভিজ্ঞ স্মিথকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত দলকে কতটা স্থিতি ও আত্মবিশ্বাস এনে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।