শ্রীলঙ্কার বিপর্যস্ত জনজীবনের জন্য ত্রাণ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া ও বন্যার কারণে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষদের জন্য বাংলাদেশ সরকার মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আগামী ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে ত্রাণসামগ্রী এবং একটি উদ্ধারকারী দল শ্রীলঙ্কায় পৌঁছাবে।

সরকারি তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জরুরি সহায়তা বহনের জন্য দুটি বিশেষ বিমান প্রস্তুত করেছে। ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধারকাজ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য একটি দলও সঙ্গে যাবে।

ত্রাণ কার্যক্রমের বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিএমইএ এবং এসেনশিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান

বিষয়সংখ্যা
মৃতের সংখ্যা৩৫৫ জন
নিখোঁজ ব্যক্তি৩৬৬ জন
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর২০,০০০+
নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরানো মানুষ২,১০,০০০ জন

তথ্য অনুযায়ী, ডিটওয়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মারাত্মক হওয়ায় শ্রীলঙ্কা সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপকে আঞ্চলিক সম্প্রীতি ও মানবিক সহায়তার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলটি শুধু ত্রাণ বিতরণ করবে না, পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয় প্রদান নিশ্চিত করবে। বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধ বহন করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কার দূর্গম এলাকায় নিরাপদে ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশি বিমান ও সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনী সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হবে।

বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের এই উদ্যোগ দূর্যোগে দ্রুত সহায়তা প্রদানের উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশের কাছে মানবিক সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে।