শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উন্মোচিত হয়েছে। গত ১ এপ্রিল সকালে উপজেলার তাঁতীহাটি নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী মোড়ে একটি ট্রাংকের ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহত নারী হলেন ডলি আক্তার (৩৫), নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার মো. আলাল মিয়ার কন্যা।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম শনিবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে জানান, মূল আসামি মো. নিয়ামুর নাহিদ (২৬) এবং সহযোগী তার স্ত্রী মোছা. রিক্তা মনি (২৬) গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া পিকআপ চালক আশরাফ আলী সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
Table of Contents
হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত অনুসারে, ৩০ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিয়ামুর নাহিদ তার স্ত্রী না থাকার সুযোগে ডলির সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে টাকার দর কষাকষি নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। ডলি চিৎকার শুরু করলে নাহিদ লোক দেখার ভয়ে ডলির গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।
পরবর্তী দিন পিকআপ ভাড়া করে মরদেহ শ্রীবরদীতে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই তথ্য প্রমাণের জন্য পিবিআই টেকনোলজির সহায়তায় পিকআপের গতিপথ ও ড্রাইভার শনাক্ত করেছে।
হত্যার পটভূমি
ডলি আক্তারের জীবনচক্রে জানা গেছে, তার প্রথম স্বামী কাজিম উদ্দিন মারা যাওয়ার পর তিনি প্রায় তিন বছর আগে মো. বিল্লাল হোসেনের সাথে পুনর্বিবাহ করেন। তিনি গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। আসামিরা নিয়ামুর নাহিদ ও রিক্তা মনি টেক্সটাইলে চাকরি করতেন।
গ্রেপ্তারের পর ঘটনা
মূল আসামি ও সহযোগী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। পরে তারা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা ও উপস্থিতি
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পিবিআইয়ের এসআই মো. আব্দুস সালাম, মো. ফয়জুর রহমান, মো. সামিউল ইসলাম, মো. হাফিজুর রহমান সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
হত্যাকাণ্ড সংক্ষেপ (টেবিল)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | ডলি আক্তার, ৩৫ বছর |
| ঘটনা তারিখ | ১ এপ্রিল ২০২৬ |
| হত্যাকাণ্ডের স্থান | শ্রীবরদী, তাঁতীহাটি নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী মোড় |
| মরদেহ অবস্থান | ট্রাংকের ভেতর, হাত-পা বাঁধা |
| মূল আসামি | মো. নিয়ামুর নাহিদ, ২৬ বছর |
| সহযোগী আসামি | মোছা. রিক্তা মনি, ২৬ বছর |
| হত্যার কারণ | অর্থ ও অনৈতিক বিষয় নিয়ে বিরোধ |
| গ্রেপ্তার তারিখ | ৪ এপ্রিল ২০২৬ |
| স্বীকারোক্তি | ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকার |
| তদন্তকারী সংস্থা | পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) |
উপসংহার
এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সমাধান পিবিআই’র কার্যকর তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কে প্রমাণ করেছে। দ্রুত গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থার সক্ষমতা তুলে ধরে। এই ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
