শ্যামলীতে চাঁদাবাজি মামলায় রিমান্ড

রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে চারজনকে চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত অগ্রগতির স্বার্থে এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি তিন আসামির বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার, যখন অভিযোগ ওঠে যে শ্যামলী এলাকার ওই হাসপাতালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অভিযোগে বলা হয়, ওই হাসপাতালটি কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ কামরুল ইসলামের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। চাঁদা দাবির ঘটনায় হাসপাতালটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

পরবর্তীতে হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে মোট সাতজনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে একজনকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বাকি ছয়জনকে তার সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের গণমাধ্যম শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই গ্রেফতারদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য ব্যক্তি ও অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে বলেও জানানো হয়।

ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের কয়েকজন প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং যদি কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মামলার বর্তমান অবস্থার একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—

বিষয়তথ্য
মামলার প্রকৃতিচাঁদাবাজি
ঘটনার স্থানশ্যামলী, সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতাল
অভিযোগপাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি
গ্রেফতারসাতজন
রিমান্ডে প্রেরিতচারজন
আদালতঢাকা মেট্রোপলিটন আদালত
মামলা দায়েরহাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এটি কোনো বৃহৎ সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অর্থের উৎস, পরিকল্পনার ধরন এবং সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।