শ্বশুর ডিলার, জামাতার বাড়িতে ডিজেল মজুত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করার ঘটনা সামনে এসেছে। রাজার কলতা এলাকার নয়ন হোসেন (২৮) নামের এক যুবককে মঙ্গলবার দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় জরিমানা করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, নয়নের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বাল্লা স্থানীয় তেলের ডিলার এবং নয়ন শ্বশুরের দেওয়া ডিজেল নিজের বাড়িতে মজুত রাখছিলেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আসাদুজ্জামান রুমেল নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নয়ন হোসেনের বাড়িতে মোট ২০টি তেলের ড্রাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮০ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে মজুত রাখা হয়েছিল। অভিযানে নয়নকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান সংক্রান্ত তথ্য

ক্র.নংনাম ও বয়সবাড়ি এলাকাঅবৈধ ডিজেল পরিমাণজরিমানাঅভিযানকারী কর্মকর্তা
নয়ন হোসেন, ২৮রাজার কলতা, গালা ইউনিয়ন৮০ লিটার৫,০০০ টাকামো. আসাদুজ্জামান রুমেল

অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশীয় তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে কম পরিমাণে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু ডিলার ও ব্যবসায়ী ডিজেল অবৈধভাবে মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছে।

নয়ন হোসেন জানিয়েছেন, “আমার শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বাল্লা ভাদিয়াখোলা এলাকার তেলের ডিলার। তিনি যে ডিজেল দেন, তা আমি নিজের বাড়িতে এনে বিক্রি করতাম।”

মো. আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, “এই ধরনের অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শ্বশুর থেকে প্রাপ্ত ডিজেলকে জামাইয়ের বাড়িতে রাখা হয়েছে এবং তা বেশি দামে বিক্রি করা হতো। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

অভিযানটি স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ তৈরি করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একই সাথে অভিযান চালিয়ে এমন অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ রাখতে কাজ করছে।