শৈশবের ঈদ আনন্দে ভরা স্মৃতি: রফিকুল আলম

বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশী সঙ্গীত জগতে নিজের অনন্য কণ্ঠের মাধ্যমে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে আসছেন প্রখ্যাত শিল্পী রফিকুল আলম। দেশ-বিদেশে তার সুরের প্রশংসা ব্যাপকভাবে হয়েছে এবং তিনি দেশের সঙ্গীত ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

আজও তিনি সঙ্গীতের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। দৈনিক স্টারের সঙ্গে আলাপে শিল্পী তার শৈশবের ঈদের স্মৃতিকে উজ্জ্বলভাবে স্মরণ করেন। “আমি শৈশবের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছি রাজশাহীতে,” তিনি বলেন। “আমাদের বাড়ি রাজশাহীর সাগরপাড়া এলাকায়। তখন সেখানে পাঁচটি বাড়ি ছিল, এবং সবই আমাদের পরিবারভুক্ত। ওই সময়ে আমরা চার ভাই এবং দুই বোন ছিলাম। চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে মিলিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা তখন ২১ জন। ঈদে আমরা স্বাভাবিকভাবেই বিশাল একটি দল হয়ে যেতাম। বাইরের কারও প্রয়োজন পড়ত না আনন্দ সৃষ্টির জন্য—আমরা নিজেদের মধ্যেই সব আয়োজন করতাম।”

শিশু কালীন ঈদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হাসিমুখে বলেন, “আমরা ঘুড়ি ওড়াতাম। এটা আমাদের প্রধান কার্যক্রম ছিল। আমার একজন চাচাতো ভাই ঘুড়ি বানানো জানত, তাই ঈদের আগে আমরা ঘুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত থাকতাম। ঈদের নামাজ শেষে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘুড়ি নিয়ে মাঠে যেতাম এবং সারাদিন ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ করতাম।”

নতুন ঈদের পোশাকও ঐতিহ্যের অংশ ছিল। রফিকুল আলম স্বীকার করেন, “পোশাক নিজের পছন্দে আমি বেছে নিইনি। বাবা আমাকে দর্জির কাছে নিয়ে যেতেন এবং কাপড় বেছে নিতেন। সেইভাবে আমার ঈদের পোশাক তৈরি হতো। সেই স্মৃতিগুলো সত্যিই অমলিন।”

অন্যদিকে, তাঁর পিতামহের বাড়িতে ঈদি দেওয়ার রীতি ছিল না। “আমাদের পরিবারের কাছে ঈদি দেওয়ার রীতি ছিল না, তবে মাতামহের বাড়িতে ছিল। তখন ঈদি পাওয়া ছিল এক অসাধারণ আনন্দ,” তিনি জানালেন। হাসি সহকারে তিনি যোগ করেন, “এখন অবশ্য আমি নিজেই দিই—চাই বা না চাই।”

শৈশবের স্মৃতিগুলো কখনও কখনও দুঃখও আনতে পারে। “আমি খুব বেশি নস্টালজিক হতে চাই না,” তিনি নীরবভাবে বলেন। “এটি আমাকে কিছুটা বিষণ্ণ মনে করায়। তাই সবসময় সেই স্মৃতিতে ফিরে যেতে চাই না।”

এই ঈদে শিল্পী ঢাকাতেই থাকবেন। তিনি বলেন, “ঈদটি আমার পরিবারের সঙ্গে এখানে উদযাপন করব।” সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তিনি নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত। গানটির সুর করেছেন ফোয়াদ নাসের বাবু এবং কথার রচনা করেছেন মনিরুজ্জামান মনির। এটি একটি ইউটিউব চ্যানেল এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে।

রফিকুল আলম সন্তুষ্ট মুখভঙ্গিতে বলেন, “গানটি খুবই সুন্দর হয়েছে এবং শ্রোতাদের ভালো লাগবে।”

রফিকুল আলমের শৈশবকালীন ঈদের তথ্যসার

বিষয়বিবরণ
শৈশবের শহররাজশাহী
বাড়ি এলাকাসাগরপাড়া
পরিবারের সদস্য সংখ্যা২১ জন
ভাই-বোন সংখ্যা৪ ভাই, ২ বোন
প্রিয় কার্যক্রমঘুড়ি ওড়া
ঈদি পাওয়ামাতামহের বাড়িতে প্রচলিত ছিল
নতুন পোশাক তৈরিবাবার নির্বাচিত কাপড় থেকে দর্জির দ্বারা

শিল্পীর এই স্মৃতিচারণ শুধু শৈশবের আনন্দ ফিরিয়ে আনছে না, একই সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহুরে ঈদের সাংস্কৃতিক প্রথার একটি চিত্রও ফুটিয়ে তুলছে।