শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কার অবস্থান কোথায়

ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছে নকআট পর্বের উত্তেজনা। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী কয়েকটি ক্লাব। ইতিহাস, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং পরিসংখ্যান—সব মিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠেছে সমান আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। ম্যাচের আগে এক নজরে দেখা যাক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

লেভারকুসেন বনাম আর্সেনাল

ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো করেছে জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন। ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচটি দুই লেগের নকআউট লড়াইয়ের মধ্যে চারটিতেই জয় পেয়েছে তারা। অন্যদিকে আর্সেনালের জন্য জার্মান ক্লাবগুলো সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। জার্মান দলের বিপক্ষে নিজেদের সর্বশেষ পাঁচটি নকআউট দ্বৈরথেই হেরেছে লন্ডনের ক্লাবটি, যার সবকটিই ছিল বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে।

তবে চলতি মৌসুমে আর্সেনাল দারুণ ছন্দে রয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা আটটি ম্যাচ জিতে তারা নতুন ক্লাব রেকর্ড গড়েছে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এটিই তাদের দীর্ঘতম জয়ধারা। ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে টানা এর চেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড রয়েছে কেবল ম্যানচেস্টার সিটির।

এ ছাড়া এই মৌসুমে খেলা আটটি ম্যাচের প্রতিটিতেই প্রথম গোল করেছে আর্সেনাল। শেষ ছয় ম্যাচে তারা অন্তত তিনটি করে গোল করেছে। অন্যদিকে লেভারকুসেনের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো—চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে তারা টানা ছয়বার বিদায় নিয়েছে।

পিএসজি বনাম চেলসি

প্যারিস সেন্ট জার্মেই এবং চেলসির দ্বৈরথ ইউরোপীয় ফুটবলে বেশ পরিচিত। দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত আটটি ম্যাচ হয়েছে, যেখানে পিএসজি জিতেছে তিনবার, চেলসি দুইবার এবং বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়েও ভালো করেছে পিএসজি। সর্বশেষ আট ম্যাচে তারা হেরেছে মাত্র একবার। গত মৌসুমে তারা একে একে লিভারপুল, অ্যাস্টন ভিলা ও আর্সেনালকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় করেছিল।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ধারাবাহিকতার দিক থেকেও পিএসজি এগিয়ে। টানা ১৪ মৌসুম ধরে তারা শেষ ষোলোতে খেলছে। নকআউট পর্বে তাদের শেষ ৫৮ ম্যাচের কোনোটিই গোলশূন্য ড্র হয়নি।

অন্যদিকে চেলসিও ফরাসি ক্লাবগুলোর বিপক্ষে শক্তিশালী রেকর্ড ধরে রেখেছে। ফরাসি দলের বিপক্ষে শেষ ছয় ম্যাচেই জয় পেয়েছে ব্লুজরা। নকআউট পর্বের শেষ ১৬টি দ্বৈরথের মধ্যে ১৩টিতেই জয় পেয়েছে লন্ডনের এই ক্লাব।

বোডো/গ্লিমট বনাম স্পোর্টিং লিসবন

নরওয়ের বোডো/গ্লিমট এবং পর্তুগালের স্পোর্টিং লিসবনের এই লড়াই ইতিহাসের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে নরওয়েজীয় ও পর্তুগিজ ক্লাবের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো নকআউট দ্বৈরথ।

বোডো/গ্লিমট ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতিহাস গড়েছে। প্রথম নরওয়েজীয় দল হিসেবে তারা টানা চারটি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড করেছে। ইউরোপা লিগে পোর্তো ও ব্রাগাকে হারিয়ে পর্তুগিজ ক্লাবগুলোর বিপক্ষেও শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা।

অন্যদিকে স্পোর্টিং লিসবনের ইউরোপীয় ইতিহাস ততটা উজ্জ্বল নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে তারা কখনোই শেষ ষোলোর বাধা টপকাতে পারেনি। ইউরোপিয়ান কাপে তাদের একমাত্র কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা ১৯৮২–৮৩ মৌসুমে।

রিয়াল মাদ্রিদ বনাম ম্যানচেস্টার সিটি

শেষ কয়েক মৌসুম ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগে অন্যতম বড় দ্বৈরথ হয়ে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির লড়াই। টানা পাঁচ মৌসুম ধরে নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

এখন পর্যন্ত ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে তারা। এতে দুই দলেরই জয় পাঁচটি করে এবং পাঁচটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফলে পরিসংখ্যানের দিক থেকে পাল্লা প্রায় সমান।

তবে শেষ ষোলোর অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। সর্বশেষ ১৫ বারের মধ্যে ১৩ বার তারা এই বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। যদিও ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে সাম্প্রতিক চার ম্যাচে জয় পায়নি স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

ম্যানচেস্টার সিটির পরিসংখ্যানও বেশ শক্তিশালী। স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে তাদের সর্বশেষ ১৮ ম্যাচে হার মাত্র তিনটি। এই সময় তারা জিতেছে ১০টি ম্যাচ এবং ড্র করেছে পাঁচটি।

রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানও রয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে তার সর্বশেষ ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান এক নজরে

ম্যাচউল্লেখযোগ্য তথ্য
লেভারকুসেন বনাম আর্সেনালআর্সেনাল টানা ৮ ম্যাচ জিতেছে
পিএসজি বনাম চেলসিপিএসজি টানা ১৪ মৌসুম শেষ ষোলোতে
বোডো/গ্লিমট বনাম স্পোর্টিংপ্রথম নরওয়ে–পর্তুগাল নকআউট দ্বৈরথ
রিয়াল মাদ্রিদ বনাম সিটি১৫ ম্যাচে জয় ৫টি করে

সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রতিটি ম্যাচই ইতিহাস, পরিসংখ্যান এবং বর্তমান পারফরম্যান্সের বিচারে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কোন দল শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।