ব্রিটিশ সঙ্গীতজগতে আজ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হারানো হলো। কিংবদন্তি গায়ক ও গীতিকার ক্রিস্টোফার অ্যান্টন রিয়া, যাকে সাধারণভাবে ক্রিস রিয়া নামে চেনা হত, আজ ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, রিয়া আজ সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী ও দুই সন্তান, যা সমগ্র সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য একটি গভীর শোকের মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্রিস রিয়া বিশেষভাবে পরিচিত “ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস” গানটির জন্য। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত এই গানটি সেদিন থেকে প্রতি ক্রিসমাসে শীর্ষস্থানীয় হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেও গানটি যুক্তরাজ্যের ক্রিসমাস চার্টে ৩০ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছিল, যা রিয়ার মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগে, ফলে ভক্তদের মধ্যে শোক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের প্রতি রিয়ার অবদান গভীর। তিনি ২৫টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে দুটি অ্যালবাম যুক্তরাজ্যের শীর্ষে পৌঁছেছিল। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে “রোড টু হেল”, “অবর্জ” এবং “অন দ্য বিচ”। ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে “ফুল (ইফ ইউ থিঙ্ক ইট’স ওভার)” ও “লেট’স ডান্স” গানগুলো রিয়াকে ব্রিটিশ রক এবং সফট রক শাখার অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে রিয়া ছিলেন প্রতিকূলতার মধ্যে দৃঢ়। ১৯৫১ সালে ইতালীয় পিতার ও আয়ারিশ মাতার পরিবারে জন্ম নেওয়া রিয়া প্রথমে পারিবারিক আইসক্রিম ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। ৩৩ বছর বয়সে তিনি প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের সাথে মোকাবিলা করেন, যা অল্প সময়ের জন্য তাঁর সঙ্গীত জীবনকে ব্যাহত করেছিল। এছাড়া তিনি টাইপ ১ ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যা ভোগ করতেন এবং ২০১৬ সালে স্ট্রোকের শিকার হন। মৃত্যুর বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে তিনি কখনো ভয় পেতেন না।
ক্রিস রিয়ার জীবন ও সঙ্গীত জীবন সংক্ষেপে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম সাল | ১৯৫১, যুক্তরাজ্য |
| পিতামাতা | ইতালীয় পিতা, আয়ারিশ মাতা |
| জনপ্রিয় গান | Driving Home for Christmas, Fool (If You Think It’s Over), Let’s Dance |
| স্টুডিও অ্যালবাম | ২৫ |
| যুক্তরাজ্য অ্যালবাম চার্ট | ২টি অ্যালবাম শীর্ষে |
| স্বাস্থ্য সমস্যা | টাইপ ১ ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, স্ট্রোক |
| মৃত্যুর বয়স | ৭৪ |
রিয়ার মৃত্যুর পর ভক্ত ও সহকর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গীতের গভীরতা, আবেগপূর্ণ গিটার পরিবেশনা ও মধুর কণ্ঠস্বর আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে। ক্রিস রিয়ার সঙ্গীত, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
