জুলাই-আগস্ট ২০২৩-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটি প্রথম রায় হবে। অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক, আর একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি আবদুল্লাহ আল মামুন মামলায় অ্যাপ্রুভার হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– ১৪ জুলাই গণভবনে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা, ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলাটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। গত বছরের ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু করে এবং সেই সময় শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনও আসামি হিসেবে যুক্ত হন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রায়ের দিন ধার্য হওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, “যত শক্তিশালী হোক না কেন, যেসব ব্যক্তি মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। আমরা আশা করি, আদালত সুবিবেচনার সঙ্গে রায় দেবেন এবং দেশের ইতিহাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি সমাপ্তি ঘটবে।”
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, “বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো অস্বচ্ছতা দেখিনি। সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণের আলোকে আমরা আশা করি, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান খালাস পাবেন।”
মামলার তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল এই দীর্ঘ বিচারযাত্রা শেষ করছে।
