বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে শিশুদের মধ্যে বেড়েছে শিশুদের ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ। গবেষণা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রতিবছর ৪ লাখ শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ এ ক্যান্সার।
শিশুদের ক্যান্সার এর প্রধান কারন পরিবেশ বিপর্যয়
গতকাল বুধবার জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে পল্টনের প্রীতম জামান টাওয়ারে ‘শিশুদের ক্যান্সার প্রতিরোধে চাই সচেতনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্তি সরদার। উদ্বোধক ছিলেন ‘প্রত্যাশার বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দ্য ফিন্যান্স টুডের সম্পাদক মতিউর রহমান, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপকমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক ও দৈনিক আমার বার্তার নিউজ এডিটর সৈয়দ রিফাত সিদ্দিকী।
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন
ডা. মাহতাব হোসাইন বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে শিশুরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এ থেকে তাদের বাঁচাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষায়িত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১০ লাখ শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব।
তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশে ক্যান্সারে শিশুমৃত্যু হার চার গুণ বেশি। এসব দেশে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব তো আছেই। ২০২২ সালে প্রায় ১ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা গেছেন। ফুসফুসে, প্রোস্টেট, কোলোরেকটাল, পেট ও লিভার ক্যান্সার পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে জরায়ুমুখ, স্তন, কোলোরেকটাল, ফুসফুস, থাইরয়েড ক্যান্সার নারীদের মধ্যে বেশি। তবে শিশুদের মধ্যে লিউকোমিয়া, মস্তিস্কের ক্যান্সার, কিডনি, ব্রেইন ও উইলমস টিউমারের মতো ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
ডা. মাহতাব বলেন, উচ্চ আয়ের দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিশুর নিরাময় হলেও মধ্য এবং স্বল্প আয়ের দেশে এ হার ২০ শতাংশের বেশি নয়। তবে সঠিক সময়ে ওষুধপত্র, সার্জারি, রেডিওথেরাপিসহ অন্যান্য চিকিৎসা নিশ্চিত করলে শিশু ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। রোগ নির্ণয়ে ভুল বা বিলম্ব, মাঝপথে চিকিৎসা ছেড়ে দেওয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা না পাওয়ায় এ রোগে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।