বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের পর্দা নেমেছে জমকালো এক ফাইনালের মধ্য দিয়ে। শুক্রবারের সেই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রোমাঞ্চ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের যে প্রদর্শনী দেখা গেছে, তারই চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ঝুলিতে উঠেছে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বিপিএলের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পুরস্কারমূল্য, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেটে খেলোয়াড় ও দলগুলোর আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে রানার-আপ চট্টগ্রাম রয়্যালস পেয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। যদিও শিরোপা জয়ের স্বাদ তারা পায়নি, তবে পুরো মৌসুমজুড়ে তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কাছে।
ফাইনাল ম্যাচে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন রাজশাহীর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। স্মারক ট্রফির পাশাপাশি তার হাতে উঠেছে ৫ লাখ টাকা, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকবে।
তবে এবারের আসরের সবচেয়ে আলোচিত নাম নিঃসন্দেহে শরিফুল ইসলাম। চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই পেসার পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত বোলিং করে এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেট শিকার করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন, যা আগে ছিল তাসকিন আহমেদের দখলে। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার জন্য তিনি পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও নির্বাচিত হয়ে আরও ১০ লাখ টাকা জিতেছেন। সব মিলিয়ে শরিফুলের প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ টাকা, যা এবারের বিপিএলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পুরস্কারপ্রাপ্তির নজির।
ফিল্ডিং বিভাগেও ছিল আলাদা স্বীকৃতি। রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ১০টি ক্যাচ ধরে এবং ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত ফিল্ডিং প্রদর্শন করে টুর্নামেন্টের সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার জিতেছেন। এর জন্য তিনি পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে উদীয়মান ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তরুণ প্রতিভা রিপন মণ্ডল, যিনি তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা।
নিচের ছকে এবারের বিপিএলের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও প্রাপ্ত অর্থের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| পুরস্কারের ধরন | প্রাপক | প্রাপ্ত অর্থ (টাকা) |
|---|---|---|
| চ্যাম্পিয়ন দল | রাজশাহী ওয়ারিয়র্স | ২ কোটি ৭৫ লাখ |
| রানার-আপ দল | চট্টগ্রাম রয়্যালস | ১ কোটি ৭৫ লাখ |
| ম্যাচসেরা (ফাইনাল) | তানজিদ হাসান তামিম | ৫ লাখ |
| সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি | শরিফুল ইসলাম | ৫ লাখ |
| টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় | শরিফুল ইসলাম | ১০ লাখ |
| সেরা ফিল্ডার | লিটন কুমার দাস | ৩ লাখ |
| উদীয়মান ক্রিকেটার | রিপন মণ্ডল | ৩ লাখ |
সব মিলিয়ে দ্বাদশ বিপিএল শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, পুরস্কার ও প্রাপ্তির দিক থেকেও ছিল স্মরণীয়। এই আসর দেশের ক্রিকেটে নতুন তারকা তৈরি করার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক ও পেশাদার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
