শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নতুন ‘টাস্কফোর্স’ দাবি

আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে শিক্ষার উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য একাধিক প্রত্যাশা জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমন্বিত মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযান। আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে “এসডিজি-৪ ও বাংলাদেশ: কোথায় আছি, কোথায় যেতে চাই আমরা” শীর্ষক আলোচনা সভায় এই দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বর্তমান অবস্থা, ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসমূহ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ। তিনি শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য অভিজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের নিয়ে শিক্ষা খাতের জন্য একটি স্থায়ী টাস্কফোর্স গঠন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মনজুর আহমদের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, শিক্ষা খাতকে খণ্ডিতভাবে না দেখে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ধাপে ধাপে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিদ্যালয় শিক্ষাকে সর্বজনীন করতে হবে এবং বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। সব সরকারই শিক্ষাকে অবহেলা করেছে। আমাদের সুপারিশের এক বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।”

অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ এসডিজি-৪ বাস্তবায়ন পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় ঝড়ে পড়ার হার ২০২৪ সালে ১৬.২৫%, যা ২০২৩ সালের ১৩.১৫% থেকে বেড়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝড়ে পড়ার হার এখনও ৩৫.৪০%। তিনি বলেন, “এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষার্থীপ্রতি উপবৃত্তি বৃদ্ধি এবং বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।”

এছাড়া গণসাক্ষরতা অভিযান নিম্নলিখিত সুপারিশগুলো আগাম নির্বাচিত সরকারের জন্য তুলে ধরেছে:

সুপারিশবিবরণ
টাস্কফোর্স গঠনঅভিজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান সদস্য নিয়ে ৫ বছরের পরিকল্পনা কার্যকর করা
বাজেট বরাদ্দজাতীয় বাজেটের ২০% বা জিডিপির ৪–৬% শিক্ষা খাতে বরাদ্দ
শিক্ষার্থী উপবৃত্তিপ্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক অন্তত ৫০০ টাকা উপবৃত্তি
উচ্চশিক্ষা ও মন্ত্রণালয় সংযুক্তিউচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাকে একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা
পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনাস্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ), ফওজিয়া মোসলেম (বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ), মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া (এডুকেশন লোকাল কনসালটেটিভ), প্রবাসী চিকিৎসক নাহরীন আহমেদ, এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাশ। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থী ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে মতামত প্রদান করেন।

এই অনুষ্ঠানের মূল আহ্বান ছিল, আগামী নির্বাচিত সরকার যেন শিক্ষার ক্ষেত্রে স্থায়ী, কার্যকর ও পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে দেশের শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করে এবং ঝড়ে পড়া কমিয়ে আনে।